আঙুল ফোটালে কি সত্যিই বাতের রোগ হয়? জেনে নিন বিজ্ঞান কী বলে
আঙুলের গাঁট বা জোড় ফোটানোর অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এর ফলে কি বাতের রোগ বা আর্থ্রাইটিস হয়? বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই বিষয়ে নানা তথ্য উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

আমাদের অনেকেরই আঙুলের জোড় বা গাঁট ফোটানোর একটি সাধারণ অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু এই অভ্যাসটি শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর এবং এর সঙ্গে বাতের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌতূহল ও গবেষণা চলে আসছে। বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে এই সাধারণ অভ্যাসটির স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং আর্থ্রাইটিসের সঙ্গে এর সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে।
বিজ্ঞান বলছে, আঙুল মোচড়ালে বা ফোটালে জয়েন্টের ভেতরের সাইনোভিয়াল তরলের চাপ কমে যায়। এই প্রক্রিয়ায় তরলের ভেতর থেকে গ্যাস বের হয়ে ছোট ছোট বুদবুদ তৈরি হয় এবং এর ফলেই পরিচিত 'কট' বা ফোটার শব্দের সৃষ্টি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি গাঁট ফোটানোর সময় যে শব্দ হয়, তার তীব্রতা প্রায় ৮৩ ডেসিবেল পর্যন্ত হতে পারে।
এই বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা গবেষণা চালানো হয়েছে। ১৯৭৫ সালের একটি গবেষণায় নিয়মিত গাঁট ফোটান এমন ২৮ জন মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের আরেকটি গবেষণায় দীর্ঘ সময় ধরে গাঁট ফোটানোর অভ্যাস রয়েছে এমন ৭৪ জন ব্যক্তিকে নিয়ে কাজ করা হয়। এছাড়া অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ২১৫ জন রোগীর ওপরও গবেষণা চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের আরেকটি গবেষণায়ও এই বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
এই বিষয়ে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যক্তিগত একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন ডোনাল্ড উঙ্গার নামের এক ব্যক্তি। তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে নিজের বাঁ হাতের গাঁট দিনে অন্তত দুবার ফোটাতেন, অথচ তার ডান হাতটি সম্পূর্ণ অক্ষত রেখেছিলেন এবং কখনো সেটি ফোتانনি। দীর্ঘ এই সময় পর ১৯৯৮ সালে ৭২ বছর বয়সে তিনি নিজের দুই হাতের এক্স-রে করান এবং পরীক্ষা করে দেখেন যে তার কোনো হাতেই আর্থ্রাইটিসের কোনো লক্ষণ বা বাতের প্রভাব তৈরি হয়নি।
সার্বিকভাবে, আঙুল ফোটানোর সময় সাইনোভিয়াল তরলের চাপ কমে গ্যাস থেকে বুদবুদ সৃষ্টির মাধ্যমে যে শব্দ হয়, তা নিয়ে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে ভিন্ন চিত্রই দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে গবেষকদের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা আজও অব্যাহত রয়েছে।








