অস্ট্রেলিয়ায় জায়ান্ট কাটলফিশ কমেছে ৯৭ শতাংশ
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে এ বছর প্রজননের জন্য মাত্র ১ হাজার ৮১১টি জায়ান্ট অস্ট্রেলিয়ান কাটলফিশ জড়ো হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৯৭ শতাংশ কম। চলতি প্রজনন মৌসুমে উপকূলজুড়ে জরিপ চালিয়ে মাত্র ৪৪০টি ডিম পাওয়া গেছে। গত বছরের মার্চে সেখানে বিষাক্ত শৈবালের প্রভাব প্রথম শনাক্ত হয়েছিল।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে বিশাল আকৃতির জায়ান্ট অস্ট্রেলিয়ান কাটলফিশের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সামুদ্রিক প্রাণীটির সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৯৭ শতাংশ কমে গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে এ বছর প্রজননের জন্য মাত্র ১ হাজার ৮১১টি জায়ান্ট অস্ট্রেলিয়ান কাটলফিশ জড়ো হয়েছে। অথচ গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৬৩ হাজার। দীর্ঘমেয়াদী পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৩ সালে কাটলফিশের সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৫০০ এবং ২০২০ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার।
পূর্ণবয়স্ক কাটলফিশের স্বাভাবিক আয়ু সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক এই আকস্মিক পতনের কারণে প্রজনন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলতি প্রজনন মৌসুমে উপকূলজুড়ে জরিপ চালিয়ে অত্যন্ত হতাশাজনক চিত্র পাওয়া গেছে। পুরো এলাকায় মাত্র ৪৪০টি ডিম পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে আইরেল্যাবের ম্যানি কাটজ একটি উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
ম্যানি কাটজ বলেছেন, উপকূলের প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাধারণত কয়েক মিলিয়ন ডিম থাকার কথা। আমরা যতটা সম্ভব প্রায় প্রতিটি পাথরের নিচেই খুঁজেছি। কিন্তু সব মিলিয়ে মাত্র ৪৪০টি ডিম পেয়েছি।
এই প্রাকৃতিক সংকটের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ ও পানি দপ্তর, গ্রেট সাদার্ন রিফ ফাউন্ডেশন, প্রাথমিক শিল্প ও অঞ্চলবিষয়ক দফতর এবং সাউথ অস্ট্রেলিয়ান রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট। এছাড়া গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন স্টেফান অ্যান্ড্রুজ এবং মাইক স্টিয়ারের মতো বিশেষজ্ঞরা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে গত বছরের মার্চে বিষাক্ত শৈবালের প্রভাব প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল। এই বিষাক্ত শৈবাল এবং পরিবেশগত অন্যান্য পরিবর্তন জায়ান্ট অস্ট্রেলিয়ান কাটলফিশের এই চরম বিপদের প্রধান কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট গবেষক ও কর্মকর্তারা।








