অপরাধ তদন্তে মাইক্রোবায়োম ফরেনসিকস ও ব্যাকটেরিয়া বিশ্লেষণ
ফরেনসিক মাইক্রোবায়োলজির মাধ্যমে অপরাধ তদন্তের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে চলছে গবেষণা ও পরীক্ষা। তবে গবেষকদের মতে, ফৌজদারি তদন্তে অপরাধী শনাক্ত করার জন্য এই পদ্ধতিটি এখনো নির্ভরযোগ্য নয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ১০:৩২· ১ মিনিট পড়া

১৯৯০-এর দশক থেকে ফরেনসিক মাইক্রোবায়োলজির যাত্রা শুরু হয়। অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে এই নতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও নানা ধরনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গবেষক ও বিজ্ঞানীরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য জুড়ে এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এই গবেষণার অগ্রগতির পথে একটি বড় মাইলফলক অর্জিত হয় ২০১০ সালে। সে সময় ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক রব নাইট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রমাণ করেছিলেন। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে কিবোর্ড বা মাউসে লেগে থাকা ব্যাকটেরিয়া বিশ্লেষণ করে ডেটাবেস থেকে সেটির মালিককে খুব সহজেই খুঁজে বের করা সম্ভব।
এর ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে ফ্লোরিডার হলিউড শহরে একটি অভিনব পরীক্ষা চালানো হয়। সেখানে একটি সাজানো চুরির ঘটনার মাধ্যমে অপরাধের জায়গায় ফেলে যাওয়া ব্যাকটেরিয়া বিশ্লেষণের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীবের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তা যাচাইয়ের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে এই প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও সংশয় রয়ে গেছে। ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল যে ফৌজদারি তদন্তে অপরাধী শনাক্ত করার জন্য ব্যাকটেরিয়া শনাক্তকরণের পদ্ধতিটি তখনো নির্ভরযোগ্য ছিল না। এই বিষয়ে গবেষকেরা সুনির্দিষ্টভাবে মন্তব্য করেছেন যে, ফৌজদারি তদন্তে অপরাধী শনাক্ত করার জন্য এই পদ্ধতিটি এখনো নির্ভরযোগ্য নয়।
এই প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ বাড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে সম্প্রতি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে ইউনিভার্সিটি অব ল্যাঙ্কাশায়ারের ফরেনসিক বিজ্ঞানী নোয়েমি প্রোকোপিও এবং ক্রাইম-সিন বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি নিক্সন ১০০ জন নতুন পুলিশ কর্মকর্তার ওপর একটি পরীক্ষা চালান। এই পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন পুলিশ কর্মকর্তাদের এই উদীয়মান প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
বর্তমানে নোভা সাউথইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, হাওয়াইয়ের চ্যামিনেড ইউনিভার্সিটি, ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি, শিকাগো ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব ল্যাঙ্কাশায়ারের মতো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গবেষকেরা এই নিয়ে কাজ করছেন। এছাড়া ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাও এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। জোসে লোপেজ, ডেভিড কার্টার, রব নাইট, জ্যাক গিলবার্ট, অ্যান্ডি নিক্সন ও নোয়েমি প্রোকোপিওয়ের মতো গবেষকেরা এই বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
এই গবেষণার কাজে বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার মানুষের একটি ডেটাবেস এবং ২৭০ জনের একটি ডেটাবেস। এছাড়া ২০১৫ সালের গ্রীষ্মকাল, ১৯৯০-এর দশক, ২০২০ সাল, ২০১৮ সাল, ২০২৩ সাল, ২০২৫ সাল এবং ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের মতো বিভিন্ন সময়কাল এই গবেষণার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এসব তথ্য ও পরীক্ষার মাধ্যমে অপরাধ তদন্তে মাইক্রোবায়োম ফরেনসিকসের কার্যকারিতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।








