স্বাস্থ্য খাতের ছয় মাসের অর্জন ও হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ে এম এ মুহিত
স্বাস্থ্য খাতের ছয় মাসের পারফরম্যান্স এবং হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে এবং দেশব্যাপী ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

২০২৬ সালের ১৮ আগস্টের মধ্যে বিএনপি সরকার তাদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ করেছে। এই ছয় মাসের কাজের মূল্যায়ন, স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব এবং চলমান টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক তুষার শুভ্র অধিকারীকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
সাক্ষাৎকারে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত স্বাস্থ্য খাতের বিশাল পরিধি তুলে ধরে বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিশাল মন্ত্রণালয়, যা দেশের ২০ কোটি মানুষের প্রত্যেকের জীবনকে প্রভাবিত করে। দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, হামের প্রাদুর্ভাব সরকার এবং দেশের মানুষের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। এই আকস্মিক সংকট মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
হাম মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই জরুরি অভিযানের সময় দেশজুড়ে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এই মহামারির ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে জানা যায়, হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত শিশুদের ৯০ শতাংশই ছিল টিকাবিহীন।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণের উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ হিসেবে গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে হামের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোগত কাঠামোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১৫১ শয্যার হাসপাতাল এবং পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল। তবে জনবল সংকটের কারণে এসব সেবা দানে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ, প্রয়োজনীয় জনবলের মাত্র ৪০ শতাংশ রয়েছে এবং ১৫ হাজার পদ শূন্য থাকায় প্রায় ৬০ শতাংশ জনবলের ঘাটতি রয়ে গেছে।
চলমান টিকাদান কার্যক্রমে ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী মাঠে কাজ করছেন। এর মাধ্যমে ৬০ শতাংশ থেকে কভারেজ বাড়িয়ে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। তবে বাকি ১০ শতাংশ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।








