সৌদি আরবে সমুদ্রের পানি পরিশোধন ও সরবরাহ ব্যবস্থা
সৌদি আরবে সমুদ্রের পানি পরিশোধন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। চরম শুষ্ক আবহাওয়া ও সীমিত বৃষ্টির কারণে এই বিশাল অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সৌদি আরবের ভৌগোলিক অবস্থা অত্যন্ত প্রতিকূল হওয়ায় সেখানে সুপেয় পানির সংকট মেটাতে অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশটির ৯৫ শতাংশের বেশি এলাকা শুষ্ক মরুভূমি এবং এখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১০০ মিলিমিটারেরও কম। এছাড়া গ্রীষ্মকালে এখানকার তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই তীব্র পানির সংকট মোকাবিলায় দেশটির পক্ষ থেকে সমুদ্রের পানি ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উপকূলীয় অঞ্চলে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এই প্ল্যান্টগুলোতে সাগর থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়। এরপর আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই লবণাক্ত পানি পরিশোধন করে বিশুদ্ধ করা হয়। পরিশোধনের পর এই বিশুদ্ধ পানি বিশেষ পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।
বিশুদ্ধ পানি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত পাইপগুলো অত্যন্ত মজবুত ও বিশাল আকৃতির হয়ে থাকে। পাইপগুলো তৈরিতে প্রায় ২৫ মিলিমিটার পুরু স্টিল ব্যবহার করা হয়। এগুলোর ব্যাস ১ দশমিক ৮ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ১২ থেকে ১৮ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি ৬৩ সেন্টিমিটার ব্যাসের পাইপও এই নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হয়। এসব পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ লিটার পানি পরিবহন করা সম্ভব হয়।
এই বিশাল পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সুবিধা ভোগ করছে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী। বর্তমানে সৌদি আরবের ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে পানি পাচ্ছে। মরুভূমি অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটাতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তবে এই বিশাল অবকাঠামো নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পাইপলাইন নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। এছাড়া বড় বড় ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট স্থাপন করতে শত শত মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। এত বড় আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমেই মরুভূমির বুকে এই জটিল পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে।








