সিরিয়াকে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র
তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। মার্কিন প্রশাসন সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে এবং হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর সন্ত্রাসী তকমা প্রত্যাহার করেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

৮ জুলাই, ২০২৬ তারিখে তুরস্কের আঙ্কারার বেস্তেপে প্রেসিডেন্সিয়াল কম্পাউন্ডে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের পরই মার্কিন প্রশাসন সিরিয়ার বিষয়ে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়।
মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিরীয় সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর অংশ হিসেবে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-কে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একসময় আল-কায়েদার একটি শাখা সংগঠনের প্রধান ছিলেন। আল-নুসরা ফ্রন্ট ও পরবর্তী সময়ে এইচটিএস-এর মতো সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা ছিল। তবে ২০২৪ সালের শেষের দিকে শারার নেতৃত্বাধীন এইচটিএস বিদ্রোহী অভিযানের মাধ্যমে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন ঘটায় এবং ক্ষমতায় আসে।
সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় এখন এই কালোতালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র তিনটি দেশ অবশিষ্ট রইল। দেশগুলো হলো— কিউবা, উত্তর কোরিয়া এবং ইরান। দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও নিষেধাজ্ঞার পর এই পদক্ষেপে দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার আশা প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, "আজকের এই পদক্ষেপ সিরিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে অতিরিক্ত বিনিয়োগে সহায়ক হবে।"
অন্যদিকে, সিরিয়ার পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তা আসাদ হাসান আল-শাইবানি এই প্রসঙ্গে বলেছেন, "বিচ্ছিন্নতার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এবং স্বচ্ছতা, পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে একটি পরিবেশ তৈরি করতে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।"








