সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে তীব্র পানির সংকট ও ভরাট জলাধার
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বনের ভেতরের পুকুরগুলো বালু ও পলিমাটিতে ভরাট হয়ে গেছে এবং পাহাড়ি ছড়াগুলোতে পানির প্রবাহ প্রায় নেই।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে তীব্র পানির সংকট ও জলাধার ভরাটের ঘটনা ঘটেছে। প্রথম আলোর খবরে জানা যায়, ২০০৫ সালে এই বনটি জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ২৪৩ হেক্টর বা প্রায় ৬০০ একর আয়তনের এই উদ্যানে রয়েছে ২০০টির বেশি প্রজাতির গাছ।
এছাড়া এই বনে ১৯ প্রজাতির জীবজন্তু রয়েছে। এর মধ্যে ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর এবং দেড় শতাধিক প্রজাতির পাখি রয়েছে। এই জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার জন্য বনের ভেতরের পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে সেখানে তীব্র সংকট চলছে।
উদ্যানে থাকা পুকুরগুলো ইতোমধ্যে বালু ও পলিমাটিতে ভরাট হয়ে গেছে এবং পাহাড়ি ছড়াগুলোতে পানির প্রবাহ প্রায় নেই। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, বনের জলাধারগুলো শুধু প্রাণীর তৃষ্ণা মেটায় না, বনের স্বাভাবিক পরিবেশ, ব্যাঙ, কীটপতঙ্গের প্রজনন এবং খাদ্যের জোগানসহ পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করে। এমনিতেই সাতশড়িতে পানির উৎস কম। বন্য প্রাণী ও বনের স্বার্থে পুকুর পুনঃখননসহ সংস্কার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ টিপরা কল্যাণ সংঘের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন বর্মা বলেন, সাতছড়ির নামকরণ হয়েছিল সাতটি ছড়া থেকে। এখন সেই সাতটি ছড়ার মধ্যে দু–তিনটির অস্তিত্ব থাকলেও পানি নেই বলেই চলে। বৃষ্টি হলে ছড়াগুলোতে এক-দুই ঘণ্টা পানি দৃশ্যমান থাকলেও পরে শুকিয়ে যায়। তথ্য অনুযায়ী, উদ্যানের ভেতরে ১০ শতক, ১২ শতক ও ১৫ শতক আয়তনের পুকুর রয়েছে। এ ছাড়া ৫০০ মিটার ও ৩০০ মিটার দূরত্বের বিভিন্ন তথ্যও এর সঙ্গে জড়িত।
বনের ভেতরে পানির অভাবে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মনির মিয়া বলেন, বনের ভেতরে পানি থাকলে সব প্রাণী সেখানেই থাকে। পানি না থাকলে সেগুলো লোকালয়ের দিকে চলে আসতে পারে। এতে প্রাণীগুলো যেমন বিপদে পড়বে, তেমনি মানুষও আতঙ্কে থাকবে।
এই পরিস্থিতিতে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মহলের তৎপরতা প্রয়োজন। বন বিটের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন জানান, জলাধারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তবে এই সংকট উত্তরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বন্য প্রাণী ও সামগ্রিক পরিবেশ বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








