কুয়াকাটায় মৃত ডলফিন উদ্ধার, লেজে ছিল দড়ি ও ক্ষতচিহ্ন
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত–সংলগ্ন চর গঙ্গামতি এলাকা থেকে প্রায় ছয় ফুট লম্বা একটি মৃত বটলনোজ ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। বন বিভাগ মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে মাটিচাপা দিয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকাশ: · আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:১৬· ১ মিনিট পড়া

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত–সংলগ্ন চর গঙ্গামতি এলাকা থেকে একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার বন বিভাগ এই মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে এবং পরে মাটিচাপা দেয়। উদ্ধার হওয়া প্রাণীটি প্রায় ছয় ফুট লম্বা একটি বটলনোজ ডলফিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডলফিনটির লেজে দড়ি বাঁধা ছিল। এ ছাড়া এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। কীভাবে ডলফিনটির মৃত্যু হয়েছে এবং এর লেজে কেন দড়ি বাঁধা ছিল, তা নিয়ে উপকূলীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কুয়াকাটায় ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে উপকূল থেকে মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১৫টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এসেছে। এরপর ২০২৪ সালে ১০টি মৃত ডলফিন এবং ২০২৫ সালে ১৭টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এসেছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৬টি মৃত ডলফিন কুয়াকাটা উপকূলে ভেসে এসেছে।
কুয়াকাটায় ধারাবাহিকভবে ডলফিন ও সামুদ্রিক প্রাণী মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠন ও গবেষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন আবদুল জলিল, রুমান ইমতিয়াজ, মীর মোহাম্মদ আলী ও মো. মনিরুজ্জামান। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন, কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ), বন বিভাগ, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহিপুর রেঞ্জ এই বিষয়ে তৎপর রয়েছে।
সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে রুমান ইমতিয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ডলফিন ও কচ্ছপ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের সংখ্যা কমে গেলে পুরো খাদ্যচক্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত সমন্বিত গবেষণা, নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
পরিবেশবাদী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, কুয়াকাটা উপকূলে সামুদ্রিক প্রাণীর জীবন রক্ষায় এখনই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ডলফিনের মতো সংবেদনশীল জলজ প্রাণীর সুরক্ষায় জোরালো নজরদারি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেছেন।








