শ্যামনগরে হাঁসের খোপ থেকে ১১ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার ও অবমুক্ত
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনসংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে প্রায় ১১ ফুট লম্বা ও ৩০ কেজি ওজনের একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বন বিভাগ ও স্থানীয় সিপিজি সদস্যদের সহায়তায় সাপটিকে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:১৪· ১ মিনিট পড়া

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী এলাকার গাজীপাড়ায় একটি হাঁসের খোপ থেকে প্রায় ১১ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার বন বিভাগ ও স্থানীয় কমিউনিটি প্যাট্রোল গ্রুপের (সিপিজি) যৌথ উদ্যোগে এই বিশাল আকারের অজগরটি উদ্ধার করা হয়।
<প>ঘটনার সূত্রপাত ঘটে স্থানীয় বাসিন্দা মোক্তার গাজীর বাড়িতে। আজ বুধবার সকালে মোক্তার গাজীর স্ত্রী জুলেখা বেগম হাঁসের খোপ পরিষ্কার করতে যান। খোপের ভেতরে প্রবেশ করতেই তাঁর নজরে পড়ে একটি বিশাল আকৃতির সাপ। আকস্মিক এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন।এ বিষয়ে মোক্তার গাজী প্রথম আলোকে জানান, 'সাপ, সাপ বলে চিৎকার করে তিনি সংজ্ঞা হারান।' জুলেখা বেগমের এই চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন এবং খোপের ভেতরে বিশাল একটি অজগর দেখতে পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোট নয়টি হাঁসের মধ্যে তিনটি বের হয়ে এলেও বাকিগুলো খোপ থেকে বের হচ্ছিল না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অজগরটি ইতিমধ্যে দুটি হাঁস খেয়ে ফেলেছিল এবং আরেকটি হাঁস পেঁচিয়ে ধরে রেখেছিল।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জুলেখা বেগম তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত লোকজনকে সতর্ক করেন। জুলেখা বেগম বলেন, 'কেউ হাত দিলে সাপটি অন্য জায়গায় চলে যেতে পারত। তখন সেটিকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে যেত।'
খবর পেয়ে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন এবং স্থানীয় কমিউনিটি প্যাট্রোল গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁদের মধ্যে ইসমাইল সানা ও ইরফান উদ্দিনসহ অন্যান্যরা মিলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অজগরটিকে উদ্ধার করেন। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ কেজি ওজনের এই অজগরটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১১ ফুট।
উদ্ধারের পর সাপটিকে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া টহল ফাঁড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়। বন্যপ্রাণী সুরক্ষার ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে মশিউর রহমান বলেন, 'আগে সাপ দেখলে অনেকে পিটিয়ে মেরে ফেলতেন। এখন সাপ দেখলে বন বিভাগকে খবর দেন। আজ উদ্ধার হওয়া অজগরটিও এই কারণে প্রাণে বেঁচে গেছে।' বন বিভাগ ও স্থানীয়দের এমন উদ্যোগের ফলে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।








