সাতক্ষীরায় এস এম আলিমুজ্জামান সাজুর দাফন সম্পন্ন
কলকাতার হোটেলের আগুনে নিহত এস এম আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় তাঁর নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর পর দাফন করা হয়েছে। শনিবার আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাঁকে নতুন বাড়ির সামনে দাফন করা হয়। এই অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন নিহত হয়েছিলেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত এস এম আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ তাঁর নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর পর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দুপুর সোয়া দুইটায় সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামে তাঁর বাড়িতে মরদেহ পৌঁছায়। কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে গত ১৯ আগস্ট ভোরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ওই আগুনে মোট নয়জন নিহত হন, যার মধ্যে সাতজনই ছিলেন বাংলাদেশি। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজন কুষ্টিয়ার এবং একজন ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন।
নিহত সাজুর মরদেহ পৌঁছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার জানান, আজ শনিবার আসরের নামাজের পর তাঁদের বাড়ির পাশের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সামনে ছোট ভাই সাজুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর নতুন বাড়ির সামনেই তাঁকে কবর দেওয়া হচ্ছে। বড় ভাই হিসেবে ছোট ভাইয়ের আগেই চলে যাওয়াটা অত্যন্ত কষ্টের উল্লেখ করে সাহেব সরদার বলেন, সাজু বিয়ে করেননি এবং তাঁরাই ছিলেন তাঁর পরিবার ও সবকিছু।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একই অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকারেরও মৃত্যু হয়েছিল। তবে রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতেই কলকাতার নিমতলা শ্মশানে সৎকার করা হয়েছে। এদিকে সাজুর শোকার্ত বড় ভাই অনিক সরকারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এই আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
সাজুর শৈশবের বন্ধু ভবেশ ঘোষ তাঁর স্মৃতিরচারণ করে বলেন, সাজু তাঁর ছোটবেলার বন্ধু এবং তাঁদের একসঙ্গে অনেক স্মৃতি রয়েছে। জীবনে এমন বন্ধু তিনি আর পাবেন না উল্লেখ করে ভবেশ ঘোষ জানান, দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ—কোনো কিছুতেই সাজুর কাছে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। কলকাতা যাওয়ার আগেও সাজুর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর আজ বাড়ির আঙিনায় তাঁর কবর হচ্ছে, যা অত্যন্ত কষ্টের। ঈশ্বরের কাছে তাঁর আত্মার কল্যাণ কামনা করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিচিতজনরাও সাজুর অকালমৃত্যুতে গভীর বেদনা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, আলিমুজ্জামান সাজুর মৃত্যুতে পুরো গ্রামের মানুষ শোকাহত। ছোট শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাই তাঁর মৃত্যুতে মর্মাহত। তিনি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতেন এবং খুব ভালো মানুষ ছিলেন। আজ এমন একজন মানুষ আমাদের মাঝ থেকে চলে যাওয়ায় তাঁরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানান তিনি।
অপর স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন দুঃখ প্রকাশ করে জানান, বাড়ির কাজের জন্য ইটও এনে রাখা হয়েছিল। সাজু ভাই বলেছিলেন যে তিনি ইন্ডিয়া থেকে আসার পরই কাজে হাত দেবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাই ঠিকই এলেন, তবে জীবন্ত নয়, বরং একটি মৃত লাশ হয়ে। এর আগে মরদেহ আসার পর পিস ওয়ার্ল্ড হিমঘরসহ বিভিন্ন সূত্র ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যায় এবং প্রথম আলোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।








