সন্দ্বীপে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স অচল, চিকিৎসায় দেরিতে রোগীর মৃত্যু
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সরকারি দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স অচল থাকায় এবং চিকিৎসায় দেরির কারণে সত্তরোর্ধ্ব এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার গুপ্তছড়া ঘাটে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সরকারের দেওয়া দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের একটিও রোগী পারাপারে ব্যবহৃত হচ্ছে না। এমন চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে গতকাল সোমবার গুপ্তছড়া ঘাট, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রামে চিকিৎসায় দেরির কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রোগীর নাম ওসমান গণি, যার বয়স হয়েছিল সত্তর বছর। সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ওসমান গণির মতো গুরুতর রোগীদের সপ্তাহে ৬ থেকে ১০ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থার অভাবে এমন জরুরি মুহূর্তে রোগীরা চরম দুর্পর্য়ায়ে পড়েন।
ঘটনার দিন মৃত ওসমান গণির ভাতিজা রেজাউল করিম, যার বয়স ৪৬ বছর, অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে গণমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, "ঘাটে গিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও আমরা কোনো বোটের ব্যবস্থা করতে পারিনি। সি-অ্যাম্বুলেন্স থেকেও নাই, না হলে এভাবে হয়তো আমার চাচাকে ঘাটে মৃত্যুবরণ করতে হতো না।" এই পরিবারের অপর সদস্য ৭২ বছর বয়সী সিরাজ উদ্দিনসহ স্থানীয় মো. ইব্রাহীম, কুলসুমা বেগম, মো. শাহজাহান, জামিরুল ইসলাম ও আবদুল কাইয়ুম তালুকদার এই পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সন্দ্বীপবাসীর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়েছিল, যেগুলোর মোট মূল্য ছিল ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রথম নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দিয়েছিল, যার মূল্য ছিল ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু চালক ও জ্বালানির অভাবে এই অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সম্পূর্ণ অচল পড়ে আছে।
অপরদিকে, দ্বিতীয় নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি 'রেসকিউ ইগল ১' নামে পরিচিত, যা ২০১৫ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দিয়েছিল। প্রায় ৬৫ লাখ টাকা দামের এই নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দেওয়া ছয়টি নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের একটি এবং এটি ডাচ হেলথ-এর সহায়তায় প্রস্তুত হয়েছিল। তবে সবচেয়ে বড় ত্রুটি হলো, এটি শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ জলপথে চলাচলের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা উত্তাল সমুদ্রপথে চলাচলের একেবারেই উপযোগী নয়। ফলে এটিও কোনো কাজে আসছে না।
এদিকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সহায়তায় মাঝে মাঝে কিছু উদ্ধারকাজ পরিচালিত হলেও সাধারণ রোগীদের নদী পারাপারের জন্য এটি যথেষ্ট নয়। সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জরুরি মুহূর্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের দ্রুত চট্টগ্রাম শহরে পাঠানো আবশ্যক।
এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে এম আশরাফ সিদ্দিকী জানান, "মঙ্গলবারও আমরা একজন হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চট্টগ্রাম..." পাঠানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু নৌ-অ্যাম্বুলেন্সের অপর্যাপ্ততা ও অচল অবস্থার কারণে প্রতিবারই জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের এই দাবি সত্ত্বেও নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালুর কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।








