ঝুঁকিপূর্ণ দেওয়ানহাট সেতু পুনর্নির্মাণের পরিবর্তে রেট্রোফিটিংয়ের চিন্তা
চট্টগ্রাম নগরের জরাজীর্ণ দেওয়ানহাট সেতু পুনর্নির্মাণের জন্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ওভারপাসের কারণে প্রয়োজনীয় জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেতুটি রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রাম নগরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের যোগাযোগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ দেওয়ানহাট সেতুটি বর্তমানে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় অর্ধশতকের পুরোনো এই সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। টাইগারপাস থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের ওপর সেতুটি ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। প্রতিদিন অন্তত ৭৫ হাজার যানবাহন এই সেতুটি ব্যবহার করে থাকে।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় জরিপ ও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। এই সেতুটি নিয়ে কথা বলেছেন জুয়েল শীল, আনিসুর রহমান ও দলোয়ার মজুমদার। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলো সহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম এবং চট্টগ্রাম ঐতিহ্য রক্ষা পরিষদ কাজ করছে।
সেতুর বর্তমান দৈর্ঘ্য ৫০ মিটার এবং প্রশস্ততা ৬০ ফুট। তবে নতুন সেতু নির্মাণ করতে হলে এর দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে প্রায় ১৬০ মিটার করতে হবে। রেললাইন থেকে বর্তমান সেতুর উচ্চতা রয়েছে সাড়ে পাঁচ মিটার। কিন্তু রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী এই উচ্চতা হতে হবে অন্তত সাড়ে আট মিটার।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে নতুন কিছু অবকাঠামো যুক্ত হওয়ায়। ২০১৩ সালে দেওয়ানহাট ওভারপাস চালু হয়। এরপরে ২০২৪ সালের আগস্টে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়ক বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, যা বাস্তবায়ন করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও ওভারপাসের কারণে সৃষ্ট অবকাঠামোগগত অবস্থানের জন্য রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এই জায়গা সংকটের কারণেই নতুন সেতু নির্মাণের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে সেতুটি রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রেট্রোফিটিং করা সম্ভব হলে এই সেতুর ভারবহনক্ষমতা প্রায় ৪৫ শতাংশ বাড়ানো যাবে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর আয়ুষ্কাল আরও ২৫ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








