শেয়ারবাজার ও আর্থিক খাতে দুর্বল প্রতিষ্ঠানের পতন ও আমানত সংকট
শেয়ারবাজারে দুর্বল ও অকার্যকর কোম্পানির অবসায়ন প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়ে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ এবং শেয়ার লেনদেন স্থগিতের ঘটনা ঘটেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

শেয়ারবাজারে দুর্বল ও অকার্যকর কোম্পানির অবসায়ন বা লিকুইডেশনের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের মূলধন হারিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য শূন্য হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ ছাড়াই বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের শিকার হচ্ছেন, যা দেশের পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতের সার্বিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
এই সংকটের অংশ হিসেবে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন প্রায় এক বছর আগে একটি একীভূতকরণ বা মার্জার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্থগিত করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা পর্যন্ত নেমে যাওয়ায় এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের মূল্য শূন্য হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক চারজন অকার্যকর অ-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা এনবিএফআই—আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংকে অকার্যকর ঘোষণা করে এবং তাদের পর্ষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসায়ন উদ্যোগে থাকা নয়টি এনবিএফআইয়ের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপের পরদিন, অর্থাৎ ১০ আগস্ট স্টক মার্কেটে তালিকাভুক্ত থাকা তিনটি এনবিএফআই (ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং)-এর শেয়ার লেনদেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (এসইসি/সিএসই) কর্তৃক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। এই সিদ্ধান্তগুলো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সুরক্ষার প্রশ্নটিকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
আর্থিক খাতের এই তীব্র সংকটের পেছনে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ইতিহাস রয়েছে। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এবং ফাস ফাইন্যান্সসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে, যা এসব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় দুর্বল ও রুগ্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মূলধন সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় লোকসানের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।








