শিক্ষায় মুখস্থবিদ্যা ও কমছে গভীর চিন্তার চর্চা
আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মুখস্থনির্ভরতা এবং সামাজিক মাধ্যমে স্বল্পদৈর্ঘ্যের উপাদানের কারণে মানুষের মনোযোগ ও গভীর চিন্তার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এর ফলে সমাজে প্রশ্ন করার প্রবৃত্তি ও পঠন সংস্কৃতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বর্তমান সময়ের সমাজে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সমালোচনামূলক চিন্তা, প্রশ্ন করার মানসিকতা ও বই পড়ার অভ্যাস আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এই নেতিবাচক প্রবণতা আধুনিক সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে দারুণভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল অনেক দেশের আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা এখনও ব্যাপকভাবে মুখস্থবিদ্যা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল।
শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের মূল চাবিকাঠি হলো সৃজনশীল ও স্বাধীন চিন্তা। কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রিক ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা সেই পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো কিছু গভীরভাবে অনুধাবন করার ক্ষমতা এবং নিজস্ব যুক্তিতে তা বিশ্লেষণ করার সুযোগ সংকুচিত হয়ে আসছে।
এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তির অতিমাত্রায় বিস্তার এবং আধুনিক সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব। ফেসবুক কিংবা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মের রিলস বা শর্টস জাতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্যের কনটেন্ট মানুষের মনোযোগের সময়সীমাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। এসব অতি সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু মানুষের মনোজগতে দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা এবং গভীর চিন্তার অভ্যাস নষ্ট করে দিচ্ছে।
চিন্তার এই অবক্ষয় রোধে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজের ভিত্তি মজবুত করতে কিছু মৌলিক মাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম। এর মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস, পাঠাগার সংস্কৃতি এবং উন্মুক্ত আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব উপাদান সমাজে সমালোচনামূলক চিন্তা এবং যেকোনো বিষয়ে প্রশ্ন করার নৈতিক সাহস গড়ে তুলতে অপরিহার্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
তাই সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে হলে মুখস্থনির্ভর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একইসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করে গভীর পঠন ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তবেই সমাজের সামগ্রিক চিন্তাভাবনার মানোন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে।








