রাজধানীর বেহাল রাস্তা: দুর্ভোগে নগরবাসী
বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট বেহাল হয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশনগুলো প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে দুর্ভোগ কমছে না।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি এবং ইউটিলিটি সংস্থা ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সময়মতো সংস্কার কাজ না করায় রাজধানী ঢাকার রাস্তাগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) রাস্তা মেরামত ও উন্নয়নের পেছনে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে। তা সত্ত্বেও নগরবাসীর এই দুর্দশা লাঘব হচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, উত্তরা, গুলশান, বনানী, বাড্ডা, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, বাসাবো এবং মাদারটেকসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার রাস্তাগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত, যা বৃষ্টির পানির নিচে ঢাকা পড়ে প্রতিনিয়ত মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
রাস্তার এমন বেহাল দশার কারণে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা চলাচলের সময় প্রতিনিয়ত গর্তে আটকে যাচ্ছে। রাস্তার এই নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও চালকরা।
সিএনজি চালক ইউসুফ আলী রাস্তাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাস্তার কোনো জাতই না এইডা। সিএনজির চাক্কা আটকাই যায়। চাক্কা গর্তে পইড়া সাইলেন্সার মাইর খায়। জ্যামের কতা তো আর কইলামই না।"
যাত্রী ও যানবাহনের চাপ এবং রাস্তার খানাখন্দের কারণে চালকদের নিয়মিত হিমশিম খেতে হয়। আরেক চালক সুলতান আলী তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, "রাস্তায় গাড়ির চাপ থাকলে রানিংয়ে গাতা-গুতা এড়ানো যায় না। তহন গর্তে চাকা পড়ে, ঝাঁকি লাগে, যাত্রীরা গালাগালি করে।"
নগরবাসীর এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং চলাচলের উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ইউটিলিটি সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ি শেষ হওয়ার পর দ্রুত রাস্তা মেরামতের তাগিদ দিয়েছেন তারা।








