ম্যারাডোনার বিদায় থেকে মেসির যুগ: Argentine ফুটবলের রূপান্তর
আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের ডিয়েগো ম্যারাডোনার অবসর পরবর্তী সময় এবং লিওনেল মেসির যুগ পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও দলের প্রজন্মগত রূপান্তর।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল ১৯৯১ এবং ১৯৯৩ সালে পরপর দুটি কোপা আমেরিকা জিতেছিল। এই তরুণ দলটি গাব্রিয়েল বাতিস্তুতা, দিয়েগো সিমেওনে, আলফিও বাসিলে, লিও রদ্রিগেজ, ফার্নান্দো রেডন্ডো এবং ক্লারিও কানিগির মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত হয়েছিল। দলটি লাতিন আমেরিকার ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল এবং পরবর্তীতে একটি বড় প্রজন্মগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়।
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার প্রত্যাবর্তনের পর আর্জেন্টিনা দল গ্রুপ পর্বে দারুণ সূচনা করে। তারা গ্রিসের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে এবং নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয়। ম্যারাডোনার এই ফিরে আসার সময় ফিটনেস ট্রেনার ফার্নান্দো সিগোরিনির সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টিও সামনে আসে, যেখানে ডিয়েগো ম্যারাডোনা বলেছিলেন, "আর্জেন্টিনার আমাকে প্রয়োজন- এটাই আমার প্রয়োজন।"
তবে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে মর্মান্তিক এক মোড় নেয় যখন ডিয়েগো ম্যারাডোনা নিষিদ্ধ পদার্থ সেবনের দায়ে অভিযুক্ত হন। তার বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা দল মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং পরবর্তীতে রোমানিয়ার কাছে পরাজিত হয়ে রাউন্ড অব সিক্সটিন বা শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয়। ম্যারাডোনার উত্তরসূরি খোঁজার কঠিন যাত্রায় ড্যানিয়েল পাসারেলা এবং অন্যান্য কোচদের অধীনে দলটি নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সময় আর্জেন্টিনার তরুণ মিডফিল্ডার এরিয়াল ওর্তেগা ডাচ গোলরক্ষক এডউইন ভ্যান ডার সারকে হেড বাট বা মাথা দিয়ে আঘাত করার দায়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এই ঘটনাটি আর্জেন্টিনা দলের জন্য বড় ধাক্কা ছিল এবং তারা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে। জুয়ান পাবলো সোরিন ও হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরোনদের মতো খেলোয়াড়রা তখন দলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছিলেন।
এরপর ২০০২ সালের বিশ্বকাপে কোচ মার্সেলো বেলসার অধীনে আর্জেন্টিনা দল চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। রিভার প্লেট ক্লাবের ঐতিহ্য এবং তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে গড়া দল হলেও তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে বাধ্য হয়, যা পুরো দেশের ফুটবলপ্রেমীদের হতাশ করে। এই ব্যর্থতার পর দল পুনর্গঠনের কাজটি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।
২০০৬ সালের বিশ্বকাপে কোচ হোসে পেকারমানের অধীনে আর্জেন্টিনা দল কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় এবং কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়। এই টুর্নামেন্টে জুয়ান রোমান রিকেলমে দলের প্লেমেকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই সময়েই ভবিষ্যৎ তারকা লিওনেল মেসি ধীরে ধীরে জাতীয় দলের মূল ধারায় প্রবেশ করতে শুরু করেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকেন।
২০১০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল আবারও কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয়, তবে জার্মানির কাছে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। এই বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনা নিজেই আর্জেন্টিনা দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন এবং তরুণ লিওনেল মেসি গায়ে জড়িয়েছিলেন কিংবদন্তি ১০ নম্বর জার্সিটি। এর মাধ্যমেই মূলত ম্যারাডোনার উত্তরসূরি হিসেবে মেসির যুগ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল।








