মসজিদের ফান্ডে জাকাত ওয়াজিব নয়: ইসলামি বিধান
মসজিদের ফান্ডে থাকা টাকা বা সম্পদের ওপর জাকাত আবশ্যক হয় না বলে জানানো হয়েছে। কারণ এসব সম্পদ কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন নয়, বরং ওয়াকফকৃত।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মসজিদের ফান্ডে জমা থাকা অর্থ ও অন্যান্য সম্পদের জাকাত আদায় করা নিয়ে সম্প্রতি একটি স্পষ্ট ধর্মীয় বিধান বা ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, মসজিদের ফান্ডে থাকা টাকা কিংবা অন্যান্য সম্পদের ওপর কোনো ধরনের জাকাত আবশ্যক হয় না। এই বিধানটি দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা মসজিদ পরিচালনা কমি S সহ সংশ্লিষ্টদের জন্য জানা জরুরি।
এই বিধানের মূল কারণ হলো, মসজিদের ফান্ডে থাকা সম্পদ বা অর্থ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নয়। কোনো ব্যক্তি এই সম্পদের ওপর ব্যক্তিগত অধিকার খাটাতে পারেন না। শরিয়তের পরিভাষায় এই ধরনের সম্পত্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ক্যাটাগরিতে পড়ে, যা সাধারণ ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ব্যবহারের সুযোগ নেই।
প্রকৃতপক্ষে, মসজিদের ফান্ডে থাকা এই সমস্ত সম্পদ ও অর্থ মূলত মসজিদ নির্মাণ, উন্নয়ন এবং এর সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য উৎসর্গীকৃত বা ওয়াকফকৃত। ওয়াকফকৃত সম্পত্তির ওপর জাকাত ফরজ হওয়ার কোনো বিধান ইসলাম ধর্মে নেই। যেহেতু এই অর্থ জনকল্যাণমূলক বা আল্লাহর ঘরের কাজে ব্যবহৃত হয়, তাই এর ওপর জাকাত প্রযোজ্য নয়।
মসজিদের ফান্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রেও জাকাতের একটি নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত স্থাবর সম্পত্তি, যেমন জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদির ওপরও জাকাত ওয়াজিব হয় না। তবে এর একটি নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে, আর তা হলো এই স্থাবর সম্পত্তিগুলো যদি ব্যবসার পণ্য না হয়।
যদি কারও স্থাবর সম্পত্তিগুলো ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয়ে থাকে এবং তা ব্যবসার পণ্য হিসেবে গণ্য হয়, তবে তার ওপর নিয়ম অনুযায়ী জাকাত ওয়াজিব হবে। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারের বা বাসস্থানের জমি ও বাড়ির ওপর কোনো জাকাত আসবে না।
২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই ধর্মীয় নির্দেশনায় দেশের মানুষের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও স্পষ্টতা এনেছে। বিশেষ করে মসজিদ তহবিলের সঠিক ব্যবহার এবং জাকাতের হিসাব নিকাশ করার ক্ষেত্রে এই বিধানটি বিভ্রান্তি দূর করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।








