মশা কেন নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে বেশি কামড়ায়: বিজ্ঞানসম্মত কারণ
কারও প্রতি মশার আকর্ষণ কেন বেশি থাকে, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে প্রথম আলো। মানুষের নিঃশ্বাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং রক্তের গ্রুপের ওপর মশার এই আকর্ষণ নির্ভর করে। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের গ্রুপভেদেও মশার কামড়ানোর পরিমাণে তারতম্য ঘটে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

মশার কামড় নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। কেন নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে মশা অন্যদের চেয়ে বেশি কামড়ায়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে আসছেন বিজ্ঞানীরা। প্রথম আলো প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের শরীরের নানা বৈশিষ্ট্য এবং পরিবেশগত কিছু বিষয়ের ওপর মশার এই আকর্ষণ সরাসরি জড়িত থাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মশা মূলত মানুষের নিঃশ্বাসে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড শনাক্ত করে তাদের সম্ভাব্য শিকারকে খুঁজে বের করে। যেসব মানুষ অপেক্ষাকৃত বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করেন, তাদের প্রতি মশার আকর্ষণও বেশি থাকে। এই তালিকায় গর্ভবতী নারী এবং শারীরিক গঠনে বড় বা অপেক্ষাকৃত ভারী শরীরের অধিকারীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, কারণ তারা সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন করেন।
মশার কামড়ানোর পেছনে জৈবিক প্রয়োজনও রয়েছে। শুধুমাত্র স্ত্রী মশারাই রক্ত পান করে থাকে। ডিম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সংগ্রহের উদ্দেশ্যে স্ত্রী মশা মানুষকে কামড়ায় এবং রক্ত পান করে। অন্যদিকে, পুরুষ মশা কখনোই রক্ত পান করে না। পুরুষ মশার প্রধান খাদ্য হলো ফুলের মধু এবং গাছের রস।
রক্তের গ্রুপের সঙ্গেও মশার আকর্ষণের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। গ্লোবাল অনবিক রিসার্চ হাবের একটি গবেষণায় এডিস অ্যালবোপিক্টাস মশার আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই গবেষণার তথ্যানুযায়ী, ‘ও’ গ্রুপের মানুষের প্রতি মশার আকর্ষণ ‘এ’ গ্রুপের তুলনায় প্রায় এক দশমিক আট গুণ বেশি ছিল। রক্তের এই পার্থক্যের কারণেও মশার পছন্দের তারতম্য ঘটে থাকে।
এছাড়া পরিবেশগত পরিস্থিতিও মশার রক্ত পানের প্রবণতাকে প্রভাবিত করে। ডিহাইড্রেশন বা শুষ্ক পরিবেশের কারণে এডিস এজিপ্টি এবং কিউলেক্স পাইপিয়েন্সের মতো কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির মশার মধ্যে রক্ত পানের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। শুষ্ক আবহাওয়ায় বেঁচে থাকার তাগিদে এই প্রজাতিগুলোর মশাগুলো মানুষের ওপর বেশি আক্রমণ করে থাকে।
কক্সবাজার বন্ধুসভা এই বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে। সার্বقভাবে মশার এই আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের বৈজ্ঞানিকভাবে বুঝতে সাহায্য করে যে কেন কিছু মানুষ মশার আক্রমণের শিকার বেশি হন। কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা, রক্তের গ্রুপ এবং পরিবেশগত শুষ্কতা—সব মিলিয়েই মশার এই পক্ষপাত তৈরি হয়।








