মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইরান সংঘাত তীব্র, বেইজিংয়ে চীন-মিসর বৈঠক
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই কায়রোতে চীন ও মিসরের শীর্ষ নেতারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সামরিক সংঘাতের তীব্র অবনতি ঘটেছে। প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, তেহরান জর্ডান, কুয়েত, ইরাক ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই সংঘাতের জেরে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে।
এই সংঘাতের মধ্যে দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শার্পনেল আঘাত হানে। এই হামলায় এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। হতাহতদের উদ্ধারে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।
অন্যদিকে, ইরানের এই হামলার জবাবে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে এবং বাকি তিনটি জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে। কুয়েতের সেনাবাহিনী ও ইরাক এবং বাহরাইনের পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এই সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর পক্ষ থেকে টিম হকিন্স বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনোই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানায় না, আইআরজিসির মতো নয়। এর পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও স্কট বেসেন্টের পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার এই ডামাডোলের মধ্যেই চীন ও মিসরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি কায়রোতে এই বৈঠকে মিলিত হন। উল্লেখ্য, চীন ও মিসর দুটি দেশই ব্রিকস-এর সদস্য এবং বর্তমানে কায়রোতে চীনের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
সামগ্রिक এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যেমন বিবিসি ও এএফপি এবং আরব নিউজ নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি এবং জি-২০ ও তাসনিম সংবাদ সংস্থা ও ইরনা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূরাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।








