ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদ্রাসা ছাত্র সংঘর্ষ, আহত ৩০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনসে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গত ১৯ আগস্ট পুলিশ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই অনভিপ্রেত ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের মধ্যে চলা উত্তেজনা ও সংঘাতের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। রাত সোয়া ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার দিকে ডিআইজি ও এসপি স্যার পুলিশ লাইনস থেকে চলে যান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান ফটকের পকেট গেট দিয়ে ৩০-৪০ জন মাদ্রাসাছাত্র ঢুকে পড়েন। তারা ভেতরের ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড দিয়ে চেয়ার ভাঙচুর করেন। সদর থানার ওসিসহ আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এরপর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
উত্তেজনা প্রশমনে পরবর্তীতে দীর্ঘ আলোচনা চলে। এ বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম জানান, ভোর পর্যন্ত আলোচনা চলে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে আমরা দোষীদের চিহ্নিত করবো। ফুটেজে সবটাই দেখা যাবে। সভায় উন্মুক্ত কোনও কনসার্ট করা যাবে না বলে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি আসে। উত্তরে পুলিশ বলেছে, আমার কর্ম আমি করবো, অন্য কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এরপর উভয় পক্ষ শান্ত হয়েছে।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো দাবির বিষয়ে সাজিদুর রহমান বলেন, ছাত্রদের দাবি ছিল, এখানে কনসার্ট করা যাবে না, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ বরখাস্ত এবং আহত ছাত্রদের উন্নত চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া। পুলিশ আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছে, দায়িত্বে থাকা পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হবে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে পুলিশের পক্ষ থেকে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (প্রশাসন ও অর্থ) প্রধান করে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ওবায়দুর রহমান, আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, শাহ মো. আবদুর রউফ এবং এম এম রকীব উর রাজার মতো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসা, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এবং জেলা পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-র সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।








