ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিরাময় কেন্দ্রে রোগীর মৃত্যুর পর ভাঙচুর ও পলায়ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে মো. ফোরকান নামের এক রোগীর মৃত্যুর জেরে অন্য রোগীরা জানালা ভেঙে পালিয়ে গেছেন। বুধবার দুপুরের এই ঘটনার পর নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বাথরুমে পা পিছলে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার জেরে নিরাময় কেন্দ্রটির জানালার কাচ ভেঙে পাশের ভবনের ছাদে গিয়ে পালিয়েছেন চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগীরা। বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে ওই নিরাময় কেন্দ্রে মো. ফোরকান নামের এক তরুণ রোগীর মৃত্যু হয়। ভবনটির তৃতীয় তলায় এই মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছিল।
নিহত মো. ফোরকান ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রের একজন রোগী ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে নিরাময় কেন্দ্রের ভেতরেই তার মৃত্যু হয়। ফোরকানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রটিতে নানা গুঞ্জন ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বুধবার দুপুরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং রোগীরা আতঙ্কিত ও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় রোগীরা অভিনব পন্থায় পালানোর পথ বেছে নেন। তারা নিরাময় কেন্দ্রটির জানালা ভেঙে ফেলেন এবং সেখান থেকে পাশের একটি ভবনের ছাদে চলে যান। এভাবেই একে একে সুযোগ বুঝে অন্যান্য রোগীরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
রোগী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিরাময় কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু করে। নিরাময় কেন্দ্রটি কোন পরিস্থিতিতে পরিচালিত হচ্ছিল এবং সেখানে নিরাপত্তার কী ব্যবস্থা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় নিরাময় কেন্দ্রটির ওপর দায় এসে পড়ে। তবে কেন্দ্রটির পরিচালক ইকরামুল হক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন দাবি করেছেন। তিনি ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মঙ্গলবার রাতে মো. ফোরকান বাথরুমে পা পিছলে পড়ে গিয়ে মারা যান। তাকে মারধর করা হয়েছে বলে যে খবর রটেছে, তা সম্পূর্ণ সত্য নয়।
পরিচালক ইকরামুল হক আরও দাবি করেন, মারধরের বিষয়টি একটি অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়েছিল। আর সেই গুজব ও অপপ্রচারের ফলেই মূলত অন্য রোগীরা ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যান।
এই ঘটনার বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশ কাজ করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশি কার্যক্রম তদারকি করছেন। নিহতের প্রকৃত মৃত্যুর কারণ উদঘাটন এবং পালিয়ে যাওয়া রোগীদের বিষয়ে পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।








