ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় সৌরবিদ্যুৎ চালুর বিষয়ে আলোচনা
বাংলাদেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিংয়ের জন্য সোলার স্টেশন চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের পরিবহন খাতে মোট জ্বালানির ৪৭ শতাংশ ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুতের বিকল্প নেই।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় সৌরবিদ্যুতের চার্জিং স্টেশন চালুর বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের পরিবহন খাতে মোট জ্বালানির ৪৭ শতাংশ ব্যবহার করা হয়। এই খাতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এবং জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সারা দেশের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো মূলত জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে চার্জ করা হয়। তবে এই খাতে সৌরবিদ্যুৎ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বছরে ৬৫ লাখ টন জ্বালানি তেল ব্যবহার হলে এর মধ্যে ৩০ লাখ ৫৫ হাজার টন কেবল পরিবহনেই ব্যবহার করা হয়। একটি অটোরিকশা একবার পূর্ণ চার্জ দিতে আনুমানিক ৬ থেকে ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। এছাড়া একটি অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার জন্য যে অবকাঠামো গড়ে তুলতে হয়, তার জন্য কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে একটি অটোরিকশার দাম সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা। ব্যাটারির স্থায়িত্বের বিষয়ে জানা যায়, একটি ব্যাটারি সেট গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ বা ৬০০ বার চার্জ দেওয়া যায় এবং একটি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ৩ হাজার বার চার্জ দেওয়া যায়।
বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা নিয়ে পিডিবি-র জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সোলারের জন্য সরকার ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে একটি সিগনিফিক্যান্ট পরিস্থিতি দেখা যাবে, তবে সেটা কতটা বিদ্যুৎ, তা এখনই বলা সম্ভব না। তিনি আরও জানান, সৌরবিদ্যুতের জন্য সরকার নীতিমালা করতে যাচ্ছে এবং নীতিমালার কাজ চলছে। ব্যাপকভাবে কাজের পরিকল্পনা হচ্ছে যেখানে সোলার সিস্টেম, রুফটপ সোলারসহ সব ধরনের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। তবে কীভাবে সব হবে, তা নীতিমালা চূড়ান্ত হলে বলা যাবে।
বিশেষজ্ঞ বি. ডি. রহমত উল্লাহ অটোরিকশায় সোলার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, অটোরিকশার ক্ষেত্রে সোলারের কোনো বিকল্প নেই এবং গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ দিয়ে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না। তিনি উল্লেখ করেন যে, এমনিতে সাধারণ মানুষ লোডশেডিংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। সবার আগে অটোরিকশাগুলো নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং সৌরবিদ্যুতের চার্জিং স্টেশন করা জরুরি, যার জন্য ব্যাপকভাবে এখনই সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তবতায় বি. ডি. রহমত উল্লাহ আরও বলেন, এখন যা পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে আর রাস্তা থেকে অটোরিকশা উঠিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। বরং এটি একটি নীতিমালার মধ্যে এনে সরকারের উচিত অটোরিকশাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা। তিনি মনে করেন, সৌরবিদ্যুতের কাজ এখন শুরু করলে এক বছরের মধ্যেই একটি ফলপ্রসূ ফলাফল পাওয়া যাবে। সরকার ইতিমধ্যে অটোরিকশার জন্য সোলার চার্জিং স্টেশন চালুর পরিকল্পনা করলেও অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করতে নীতিমালা ও কার্যকর উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।








