গ্যাস সংকট সমাধানে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে শর্ত দিল বিপ্পা
দেশে গ্যাস সংকট সামাল দিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়াতে চায় সরকার। তবে এ জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে থাকা বকেয়া বিল পরিশোধের শর্ত দিয়েছেন বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকরা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে গ্যাস সংকট সামাল দিতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বকেয়া বিলের বিষয়টি। গ্যাস সংকটের এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখা এবং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখা এবং শিল্পে গ্যাস দেওয়া—এই দুই দিকই একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম জানান, বর্তমান সংকটে সরকারকে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখা এবং শিল্পে গ্যাস দেওয়া—দুই দিকই সামলাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালানো তাৎক্ষণিক প্রয়োজন হতে পারে, যার ফলে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন বা বিপ্পা জানিয়েছে, উৎপাদন বাড়াতে হলে তাদের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। বিপ্পার সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেছেন, পিডিবি তাদের কাছ থেকে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চেয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে এবং বকেয়া পরিশোধ করা হলে আরও প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবির কাছে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বড় অংকের অর্থ পাওনা রয়েছে। ডেভিড হাসনাত আরও জানান, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে পিডিবির প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। সরকার পুরো বকেয়া একসঙ্গে পরিশোধ করতে না পারলেও অন্তত দুই মাসের বিল রেখে বাকি অর্থ পরিশোধ করলে উদ্যোক্তারা নতুন ঋণপত্র খুলে জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারবেন এবং এতে কেন্দ্রগুলো বাড়তি সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হবে।
এদিকে দেশে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিপ্পার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু বিদ্যুৎ বিলের বকেয়াই নয়, এর পাশাপাশি পিডিবির আরোপ করা এলডি বা জরিমানার বিষয়ও রয়েছে এবং এসবেরও সমাধান করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে এই কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন সচল রাখতে এবং জ্বালানি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।








