বিয়ানীবাজারে সোনাই নদীর নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ও উত্তেজনা
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় সোনাই নদীতে বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে আন্দোলন চলছে, যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আজ শনিবার বিকেলে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীর তৃগাংগারমুখ এলাকায় আগামী ২৮ আগস্ট বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের প্রতিযোগিতায় আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জানা গেছে, এই প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি বড় আকারের গরু এবং দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি ছাগল উপহার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।
তবে এই আনন্দ আয়োজনের মাঝেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে কিছু লোক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি নিয়ে তাঁরা কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখিই করেননি, বরং এ বিষয়ে বিভিন্ন সভা ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালন করেছেন। মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তির এমন অবস্থানের কারণে আয়োজক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে মতপার্থক্য ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগী হয়েছেন। বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে। বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলওয়ার হোসেন জানিয়েছেন, উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ইউএনও মহোদয় দুই পক্ষকে নিয়ে আজ শনিবার বেলা পাঁচটায় তাঁর কার্যালয়ে যেতে বলেছেন। উভয় পক্ষের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং নিশ্চয়ই আলোচনার ভিত্তিতে বিষয়টির সমাধান হবে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চলছে। লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উম্মে হাবিবা মজুমদার এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো, ইত্তেফাক ও জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, বিষয়টি যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, পরিস্থিতি আসলে সে রকম নয় এবং এটি বড় কোনো বিষয় নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এখানে ঐতিহ্যগতভাবেই দীর্ঘদিন ধরে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে। সম্প্রতি এক ‘হুজুর’ এটা নিয়ে বক্তব্য দিয়ে বলেছেন যে গ্রামীণ এ আয়োজনে প্রায়ই মারামারি হয়, তাই এই বাইচ না হওয়ার দাবি তিনি করেছেন।
আয়োজক ও স্থানীয় মুরুব্বিরাও এই প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। স্থানীয় ব্যক্তি আমিনুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছেন, মুষ্ঠিমেয় কিছু ব্যক্তি আয়োজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করছেন। তবে লাউতা ইউনিয়নের মুরব্বিরা দুই পক্ষকে নিয়ে আজ শনিবার বিকেলে বৈঠক করবেন। সবাই নৌকাবাইচ আয়োজনের পক্ষে রয়েছেন এবং যথাসময়ে নৌকা বাইচ হবে, এমনটাই তিনি আশা করছেন।
স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন গণমাধ্যম যেমন প্রথম আলো, ইত্তেফাক এবং জাগো নিউজ এই এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দুই পক্ষের এই বিরোধ নিরসনে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় আজ বিকেলে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের মাধ্যমেই সোনাই নদীর বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত চলমান উত্তেজনার অবসান ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।








