পাবনায় গ্রামবাসীর অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে ১২৫ ফুটের বাইচ নৌকা
পাবনার আটঘরিয়ায় গ্রামবাসী ও প্রবাসীদের অর্থে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে ১২৫ ফুট দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী বাইচ নৌকা। 'চন্দাই জনতা এক্সপ্রেস' নামের এই নৌকাটি তৈরি করছেন কারিগর দুলাল চন্দ্র সূত্রধর।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চন্দাই গ্রামে গ্রামবাসী ও প্রবাসীদের অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে একটি ঐতিহ্যবাহী বড় আকারের বাইচ নৌকা। ১২৫ ফুট দীর্ঘ এই নৌকাটির নাম রাখা হয়েছে 'চন্দাই জনতা এক্সপ্রেস'। গত বুধবার এই নৌকা নির্মাণের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন তথ্য ও প্রেক্ষাপট জানা গেছে। ঐতিহ্যবাহী এই নৌকাবাইচকে টিকিয়ে রাখতে এবং নিজেদের সংস্কৃতিকে ভালোবেসে গ্রামের মানুষ ও প্রবাসীরা সম্মিলিতভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই নৌকাটি তৈরিতে আনুমানিক খরচ হচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। গ্রামের সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়েই এই ব্যয় নির্বাহ করা হচ্ছে। চন্দাই গ্রামের মানুষের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার এবং বিজয়ী হওয়ার। অতীতে তারা বুড়িগঙ্গা নদীর মতো বড় বড় জাতীয় প্রতিযোগিতাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বাইচে অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছিলেন।
বিশাল আকৃতির এই নৌকাটি তৈরি করছেন অভিজ্ঞ কারিগর দুলাল চন্দ্র সূত্রধর। পেশায় প্রায় ৫০ বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কারিগর এর আগে নিজের জীবনে প্রায় ৭০টি বাইচের নৌকা তৈরি করেছেন। তাঁর সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করছেন গোলজার হোসেন, আসাদুল ইসলাম ও অন্যরা। জানা যায়, একটি বাইচের নৌকা তৈরি করতে সাধারণত দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। তবে এই নৌকাটি নির্মাণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা মাত্র ১৭-১৮ দিনেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। এই কাজে শ্রমিকেরা মজুরি হিসেবে নিচ্ছেন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত।
নৌকা নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ৬২ বছর বয়সী গোলজার হোসেন এবং ৭০ বছর বয়সী আসাদুল ইসলাম ছাড়াও এই উদ্যোগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এই নির্মাণযজ্ঞ দেখতে এবং এর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরাও আসছেন। তাঁদেরই একজন নায়েব আলী, যাঁর বয়স ৮০ বছর। তিনি নৌকা তৈরির আবেগ ও স্থানীয় সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, 'একসময় বাপ-চাচারা বাইচ দিত, তারপর আমরা, এখন ছাওয়ালরা বাইচ খেলে। খুব ভালো লাগে।'
নৌকাটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর পরই পুরোদমে অনুশীলন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। এ বিষয়ে আবু সাঈদ নামের এক ব্যক্তি জানান, 'নৌকা তৈরি হলেই অনুশীলন শুরু হবে। আমাদের লক্ষ্য, দেশের বিভিন্ন জায়গার বাইচে অংশ নেওয়া।' নৌকাটি শুধু একটি জলযান নয়, বরং এটি স্থানীয় গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তবে এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে গিয়ে স্থানীয়দের নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখিও হতে হয়। এ বিষয়ে একদন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি আবদুল মান্নান বলেন, 'নৌকার সঙ্গে গ্রামের মানুষের ঐক্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। আমাদের গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী ও দরিদ্র। সরকার সহযোগিতা করলে আরও ভালোভাবে এই ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হতো।' প্রথম আলোর তথ্যানুযায়ী, চন্দাই গ্রামের এই উদ্যোগ গ্রামীণ সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।








