বাগেশ্বর বাবার দুর্গাপূজায় আমিষ খাওয়ার সমালোচনার তীব্র প্রতিবাদ
পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার লিলুয়ায় এক ধর্মসভায় দুর্গাপূজায় আমিষ খাওয়ার সমালোচনা ও তা বর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের 'বাগেশ্বর ধাম'-এর কথক ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের রাজনৈতিক নেতারা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার লিলুয়ায় সম্প্রতি আয়োজিত এক ধর্মসভায় মধ্যপ্রদেশের 'বাগেশ্বর ধাম'-এর কথক ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী দুর্গাপূজার সময় আমিষ খাবার খাওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর এই ঘটনাটি ঘটে। সেখানে তিনি দুর্গাপূজায় আমিষ খাবার না খাওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দেন এবং উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
ধর্মসভায় ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে একটা জিনিসই খুব খারাপ লাগে যে নবরাত্রির সময় মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাওয়া হয় এবং যত সব খারাপ খাবার তৈরি হয়, যা তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। তিনি আরও বলেন, আমি বলব, এবার পূজায় সব হিন্দুরা জেগে উঠুন। যারা আমিষ খায় তাদের বহিষ্কার করা হোক। তাঁরা মোটেও ধার্মিক নন, বরং পাণ্ডী বা পাষণ্ড।
উল্লেখযোগ্য যে, এই ধর্মসভায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। তবে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর এই মন্তব্য রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাঙালির চিরাচরিত খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতি নিয়ে ভিন রাজ্যের কোনো সাধুর এমন নির্দেশ মেনে নিতে পারেনি রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মদন মিত্র বলেন, এক বাবা বলছেন বাংলায় আমিষ খাওয়া যাবে না। অষ্টমীতে আমরা ভোগ খাই এবং মাছ-মাংস তারপর খাওয়া হয়। মাছ-মাংস তারাপীঠ থেকে শুরু করে বহু জায়গায় দেওয়া হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পূজায় চিকেন রোল, সেদ্ধ ডিম খাবে না? এগুলো মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করছে। তিনি আরও যোগ করেন, নিশ্চয়ই আমি এমন কিছু করব না যাতে আবেগে আঘাত লাগে, মন্ত্র বলতে তো আর নোংরামি করব না? ধর্ম আর রাজনীতি কেন একসঙ্গে আসছে, এটাতে আমাদের তীব্র আপত্তি রইল।
বিজেপির পক্ষ থেকেও এই মন্তব্যের বিরোধিতা করা হয়েছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বহিরাগত কোনো সাধু-সন্তের পরামর্শে বাঙালির আবহমানকালের খাদ্যাভ্যাস কিংবা সংস্কৃতি বদলে যাবে না। তিনি আরও বলেন, অষ্টমীর দিন লুচি আর নবমীর দিন কচি পাঁঠার মাংস খাওয়া বাঙালির খাঁটি রীতিনীতি, আর বাঙালি সেই ঐতিহ্যই লালন করবে।
এছাড়া এই বিষয়ে নিজের মত প্রকাশ করেছেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়ও। তিনি মন্তব্য করেছেন, ধর্মীয় বৈচিত্র্যই হিন্দুধর্মের মূল কথা। নবরাত্রির সময়ও তিনি মাছ-মাংস খান এবং এর জন্য কারও কাছে কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন তিনি মনে করেন না। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মতো বিভিন্ন সংগঠনের উপস্থিত ব্যক্তি ও নেতাদের প্রতিক্রিয়া ঘিরে এই বিতর্ক এখন তুঙ্গে।








