ফরিদপুরে যৌতুকে গৃহবধূ হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ফরিদপুরে যৌুকের দাবিতে গৃহবধূ হ্যাপি বেগমকে নির্যাতনের পর হত্যার দায়ে স্বামী রাকিবকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ হ্যাপি বেগমকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী রাকিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। আলোচিত এই রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রيয়ার অবসান হলো।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৫ মে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ হ্যাপি বেগমকে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় ৫ লাখ টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল যৌতুক হিসেবে দাবি করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এই দাবি পূরণ না হওয়ায় হ্যাপি বেগমকে প্রাণ হারাতে হয়।
ঘটনার পর নিহতের বাবা হুমায়ুন শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলাটি গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৮ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. হুমায়ূন শেখ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২০ সালের ৩০ আগস্ট ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামিমা পারভীন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে গৃহবধূ হ্যাপি বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী রাকিবের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর আদালতের পিপি বা সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী খান রতন বলেন, 'এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে নারী নির্যাতন ও যৌতুকের মতো অপরাধ প্রবণতা কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।'
যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে আদালতের এই কঠোর রায় সমাজে একটি জোরালো বার্তা পাঠাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এই রায় কার্যকর হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করার আগে অপরাধীরা দুবার ভাববে।








