প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় সংলাপ
ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সংলাপে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা ও সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রতিশ্রুতির কোনোটিই এখনো পুরোপুরি কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রথম আলো ও সিপিডির আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজধানী ঢাকায় 'সরকার কতখানি এগোল? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত' শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম আলো ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর যৌথ আয়োজনে এই সংলাপটি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে একটি বড় তথ্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয় যে, প্রাথমিক শিক্ষা ও সংশ্লিষ্ট ২৪টি প্রতিশ্রুতির কোনোটিই এখনো পুরোপুরি কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পাশাপাশি, পিইডিপি-৫ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিইডিপি-৫ অনুমোদন হয়নি।
অনুষ্ঠানে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের। তাই এক দিন, এক মাস বা ছয় মাসে এসব সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কাজ করছে। এছাড়া দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষাকে প্রধান শক্তি ও ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার সব স্তরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষা শক্তিশালী না হলে পরবর্তী স্তরগুলোও শক্তিশালী হবে না।
নাজনীন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ আয়ের দেশে যেতে এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করতে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষা ছাড়া দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ইলিয়াস মোল্লা উল্লেখ করেন যে, বিদ্যালয় নির্মাণ ও বিভিন্ন প্রকল্পে রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে প্রশাসনের স্বাধীনভাবে কাজ করা কঠিন হয়।
উক্ত সংলাপে আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন তৌফিকুল ইসলাম খান, রাশেদা কে চৌধূরী, তানজিম উদ্দিন খান, শাহীনা ফেরদৌসী ও তাসনিম জারা। এছাড়া অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষা সংস্কার কমিশন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রসঙ্গও উঠে আসে।
সংলাপজুড়ে বক্তারা প্রাথমিক শিক্ষার কাঠামোগত উন্নয়ন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গতির ওপর জোরালো তাগিদ দেন। তাদের মতে, টেকসই উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে প্রাথমিক শিক্ষার সমস্যাগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি।








