নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের ওপর সংলাপ অনুষ্ঠিত
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) আয়োজিত এক সংলাপে নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, যথাযথ আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকা সত্ত্বেও জবাবদিহি এবং সমন্বয়ের অভাবে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে 'নারী-শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ: অংশীজন সংলাপ' শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে দেশের অন্যতম মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংলাপে নারী, শিশু এবং সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকার পরও জবাবদিহি এবং সমন্বয়ের অভাবে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাহমিনা রহমান বলেন, দেশে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যাও একেবারেই নগণ্য। অথচ নারী ও শিশুর পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে শেল্টার সাপোর্ট প্রয়োজন।
সংলাপে অংশ নেওয়া কামরুন নাহার ভুক্তভোগীদের সহায়তার বিষয়ে মাঠপর্যায়ের নানা বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভুক্তভোগীদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় থাকার কথা থাকলেও, মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি আরও জানান যে, হাসপাতাল বা থানায় সেবা নিতে গিয়ে নারীরা এখনও বাজে আচরণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
নারী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার এবং প্রতিকার পাওয়ার বিষয়ে রেজমিন সুলতানা তার বক্তব্যে বলেন, নারী, শিশু ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার লঙ্ঘিত না হওয়াই হলো তাদের প্রকৃত সুরক্ষা। তিনি আরও বলেন, আর যদি অধিকার লঙ্ঘিত হয়েই যায়, তবে দ্রুত প্রতিকার দেওয়ার কাজটি রাষ্ট্রের কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
উক্ত সংলাপে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ছাড়াও নারীপক্ষ, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর, উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লিজা বেগম এবং আইভী আক্তার।
অনুষ্ঠানের সামগ্রিক আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে সেবার মান বৃদ্ধি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সংলাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা নারী ও শিশুদের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের জরুরি শেল্টার সাপোর্ট এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম করার জোরালো দাবি জানান। আসক আয়োজিত এই সংলাপটি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








