জাতীয় নীতি সংলাপে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ নিয়ে আলোচনা
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মঙ্গলবার জাতীয় নীতি সংলাপ ২০৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ ও ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতি প্রণয়নের ওপর আলোচনা করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মঙ্গলবার 'রোগীর নাগালে ওষুধ, উৎপাদকের টেকসইতা: ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতির সন্ধানে' শীর্ষক জাতীয় নীতি সংলাপ ২০৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নীতি সংলাপে বাংলাদেশে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ ও ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতি প্রণয়নের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের ওষুধ খাতের বিভিন্ন দিক এবং মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং Public Integrity Network for Evidence and Transparency (PINET) এর প্রসঙ্গ আলোচনায় যুক্ত ছিল। স্বাস্থ্যখাতের এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা অংশ নেন এবং দেশের ওষুধনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে কথা বলেন।
সংলাপে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৫ সালে প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকার ৩৪তম সংস্করণ হালনাগাদ করেছে। সংস্থাটির এই হালনাগাদ তালিকায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫৩২টি এবং শিশুদের জন্য প্রায় ৩৪২টি প্রয়োজনীয় ওষুধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫৩২টি ওষুধ রয়েছে।
অন্যদিকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় ১১৭টি ওষুধ রয়েছে বলে জানানো হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকার সঙ্গে দেশের এই তালিকার ব্যবধান ও সামঞ্জস্য নিয়ে সংলাপে আলোচনা করা হয়।
সংলাপে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. মামুনুর রহমান মালিক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউএইচসি) বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
তবে তিনি এও স্পষ্ট করেন যে, শুধু তালিকা করলেই মানুষের ওষুধপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে না। ওষুধ দেশের সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে কি না, মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে কি না এবং নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে কি না— এসব বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সব মিলিয়ে এই জাতীয় নীতি সংলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতি প্রণয়ন এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা যুগোপযোগী করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।








