শিক্ষাব্যবস্থায় বড় সংস্কার ও নতুন কারিকুলামের রূপরেখা ঘোষণা
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার ও কারিকুলাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৭ এবং ২০২৮ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তন এবং বেকারত্ব দূর করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার ও কারিকুলাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষানীতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষা খাতকে মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে পুনর্গঠন করার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের এই নতুন উদ্যোগে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা খাতের এই সংস্কার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মাহদী আমিন জানিয়েছেন, ফ্যাসিবাদী আমলে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ এর বন্যা ভাসিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি চালু ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার সেই আত্মঘাতী পথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নে তাদের জিপিএ ও সঠিক ফলাফল অর্জন করেছে। জিপিএ-৫ এর কৃত্রিম বন্যা ভাসিয়ে দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় মিথ্যা বার্তা দেওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন যে শিক্ষা খাতই তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সময় হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষের অর্থাৎ ২০২৭ সালের পাঠ্যপুস্তকে যতটুকু সম্ভব পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে।
নতুন কারিকুলামের রূপরেখা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাঠ্যপুস্তকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও খেলাধুলাবিষয়ক নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ৪টি নতুন বই ও বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে 'স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার', 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' এবং 'টেকনিক্যাল এডুকেশন' এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ।
শিক্ষাক্রমের ধারাবাহিকতায় ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে আরও বড় পরিবর্তন আসছে। এ বিষয়ে মাহদী আমিন বলেছেন যে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় দেশে একটি টেকসই ও যুগান্তকারী শিক্ষাক্রম রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা কার্যক্রমে প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিক্ষকদের জন্য 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' প্রোগ্রাম বা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল যুগে শিক্ষকদের পাঠদান প্রক্রিয়া আরও সহজ ও আধুনিক হবে।
শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব দূর করতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে 'এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ' চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাসসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত এই বহুমুখী পদক্ষেপে দেশের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।








