পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজ ঝুলে আছে বছরের পর বছর
পটুয়াখালী থেকে পিরোজপুর হয়ে খুলনা ও মোংলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণতা পায়নি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পায়রা নদীর ওপর ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের কথা ছিল। এই সেতুটি নির্মাণের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনা। এর মাধ্যমে পটুয়াখালী থেকে পিরোজপুর হয়ে সরাসরি খুলনা ও মোংলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটির নির্মাণকাজ থমকে আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই বৃহৎ জনকল্যাণমুখী প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সেতু নির্মাণের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা। কিন্তু এত বড় বাজেটের এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হতে পারেনি। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুটির নির্মাণকাজ এখনো পূর্ণতা পায়নি।
প্রকল্পটির কাজ ঝুলে থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কাটছে না। পটুয়াখালী ও পিরোজপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুটি চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু কাজের এমন দীর্ঘসূত্রতায় তাদের সরাসরি সড়ক যোগাযোগের স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেছে। কবে নাগাদ এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং এর সুফল সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পায়রা নদীর ওপর এই সেতুটি নির্মিত হলে পটুয়াখালী ও পিরোজপুরের সঙ্গে খুলনা ও মোংলার অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি আসত। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ার কারণে ব্যবসার প্রসার ঘটত। কিন্তু ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণকাজ বছরের পর বছর ধরে অসম্পূর্ণ থাকায় সেই অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বর্তমানে সেতুটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ১ হাজার ৪২ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজের গতি বাড়াতে এবং দ্রুত তা শেষ করতে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছে এলাকাবাসী। তবে কাজের যে বর্তমান পরিস্থিতি, তাতে কবে নাগাদ পায়রা নদীর ওপর এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং পটুয়াখালী থেকে পিরোজপুর হয়ে খুলনা ও মোংলা পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ চালু হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।








