হাতিয়ায় সাত মণ ওজনের শাপলাপাতা মাছ বিক্রি
নোয়াখালীর হাতিয়ায় জেলেদের জালে সাত মণ ওজনের একটি সংরক্ষিত শাপলাপাতা মাছ ধরা পড়েছে। বুধবার বিকেলে চেয়ারম্যানঘাটে মাছটি এনে প্রায় ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পরে ক্রেতারা মাছটি কেটে স্থানীয় লোকজনের কাছে বিক্রি করেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে সাত মণ ওজনের একটি বিশাল আকৃতির শাপলাপাতা মাছ ধরা পড়েছে। প্রায় ২৮০ কেজি ওজনের এই মাছটি নিয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিরল প্রজাতির এই সামুদ্রিক প্রাণীটি দেখতে উপকূলীয় এলাকায় ভিড় জমান কৌতূহলী জনতা।
গত বুধবার বিকেলে মাছটি হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাটে নিয়ে আসেন জেলেরা। এই মাছটি ঘাটের জামাল মেম্বারের মৎস্য আড়তে তোলা হয়। পরে আড়তে ডাকের মাধ্যমে মাছটি বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯০ হাজার টাকায় মাছটি কেনেন এক ক্রেতা। মাছটি কেনার পর তা আস্ত রাখা হয়নি; বরং ক্রেতা সেটি কেটে টুকরা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বিক্রি করে দেন।
প্রথম আলো সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে চেয়ারম্যান ঘাট ঘুরতে গিয়ে এই শাপলাপাতা মাছটি দেখতে পান আবদুল বারী। তিনি বলেন, 'বুধবার বিকেলে তিনি চেয়ারম্যান ঘাট ঘুরতে গিয়ে শাপলাপাতা মাছটি দেখতে পান। আড়তে ডাকের মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করা হয়। এরপর ক্রেতা কেটে টুকরা করে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বিক্রি করা হয়।'
ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে শাপলাপাতা মাছের মোট ১৬টি প্রজাতি রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে ৮ থেকে ১০ প্রজাতির শাপলাপাতা মাছ পাওয়া যায়। এসব প্রজাতির মধ্যে ২টি প্রজাতি মহাসংকটাপন্ন এবং ৩টি প্রজাতি সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।
আইনি সুরক্ষা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) হারুন-অর-রশিদ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, 'আমাদের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাপলাপাতা মাছ ধরা সরাসরি নিষিদ্ধ নয়; তবে বন্য প্রাণী ও বন আইন অনুযায়ী এটি একটি ‘‘বিপন্ন বা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি’’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত এবং ওই আইনে এটি ধরা বা বিক্রি করা নিষিদ্ধ।'
বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ অনুযায়ী এই ধরনের সংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রজাতির মাছ শিকার, সংগ্রহ, ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সচেতনতার অভাব ও আইনের সঠিক প্রয়োগের ঘাটতির কারণে প্রায়ই এমন সংরক্ষিত সামুদ্রিক প্রাণী ধরা পড়ার পর প্রকাশ্যে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।








