পঞ্চগড়ে বাংলা খ্যাঁকশিয়ালের আচরণ ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে গবেষণা
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বাংলা খ্যাঁকশিয়াল বা বেঙ্গল ফক্সের আচরণ, আবাসন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই গবেষণাটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় জানা গেছে, এই প্রাণীটির ওজন ১.৮ থেকে ৩.৬ কেজি এবং দৈর্ঘ্য মাত্র ৩১ ইঞ্চি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় দেশীয় প্রজাতির বাংলা খ্যাঁকশিয়াল বা বেঙ্গল ফক্সের আচরণ, আবাসন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন)-এর বাংলাদেশের লাল তালিকায় বেঙ্গল ফক্স বর্তমানে ‘বিপদাপন্ন’ প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এই প্রেক্ষাপটে খ্যাঁকশিয়ালের জীবনযাত্রা ও টিকে থাকার লড়াই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে গবেষণাটি চালানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। গবেষণার কাজে অংশ নেওয়া গবেষকদের মধ্যে রয়েছেন আদনান আজাদ, সুলতান আহমেদ, রোকনুজ্জামান, মোহাম্মদ সামিউল আলম, মুনতাসির আকাশ, ড. ম্যাক্সিমিলিয়ান অ্যালেন এবং রাকিবুল হাসান মুকুল। এছাড়া গবেষণা কার্যক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেইরি রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ব্রিটিশ ইকোলজিক্যাল সোসাইটি, উইলি প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) এবং বন অধিদপ্তর যুক্ত ছিল।
উদ্ধृत গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় এই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গবেষণার অংশ হিসেবে ১২ ঘণ্টা ১৮ মিনিটের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ভিডিও ক্লিপ পাওয়া গেছে। এই দীর্ঘ ভিডিও পর্যবেক্ষণে খ্যাঁকশিয়ালের দৈনন্দিন জীবন ও বাসস্থানের নানা তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বাংলা খ্যাঁকশিয়ালের ওজন ১.৮ থেকে ৩.৬ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং এদের দৈর্ঘ্য মাত্র ৩১ ইঞ্চি। এদের আবাসস্থলের আচরণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একটি গর্তে সর্বোচ্চ ছয়টি পর্যন্ত খ্যাঁকশিয়াল একসঙ্গে বসবাস বা অবস্থান করে। এছাড়া তাদের বিচরণের নির্দিষ্ট সময় রয়েছে; সাধারণত ভোর ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৬টা ৩০ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এদের বিচরণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
খ্যাঁকশিয়ালের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে গবেষণায় চাঞ্চল্যকর ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে। ৫৪০০টি ক্যামেরা-ট্র্যাপ ভিডিওর মধ্যে ৪৫ শতাংশ ভিডিওতে খ্যাঁকশিয়ালের খাদ্যের প্রকারভেদ স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, এই প্রাণীর খাবারের ১৯ শতাংশ ছিল পোকামাকড়, ১৮ শতাংশ ক্ষেত্রে বিভিন্ন পাখির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে এবং ৮ শতাংশ খাবার ছিল ইঁদুর। বিশেষ করে ১৬টি পৃথক ভিডিওতে খ্যাঁকশিয়ালদের উইপোকা খাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে।
গবেষণাটির চূড়ান্ত ফলাফল আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও স্বীকৃতি পেয়েছে। গবেষণাটি ব্রিটিশ ইকোলজিক্যাল সোসাইটি ও উইলি প্রকাশনার যৌথভাবে পরিচালিত খ্যাতনামা ‘ইকোলজি অ্যান্ড ইভোল্যুশন’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিপন্ন প্রজাতির বাংলা খ্যাঁকশিয়াল বা বেঙ্গল ফক্সের সংরক্ষণ ও তাদের প্রকৃতিগত আচরণ সম্পর্কে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








