নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের ভাষণ ও পাঁচ প্রস্তাব
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সময় তিনি ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপেন-সোর্স জোন গড়ে তোলার প্রস্তাবসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস দেশগুলোর নেতাদের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই অধিবেশনটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিশ্ব ব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
এই বিশেষ অধিবেশনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাষণ প্রদান করেন। তাঁর দেওয়া এই ভাষণের মূল শিরোনাম ছিল 'ব্রিকস সহযোগিতার ভিত্তি সুদৃঢ় করা, গ্লোবাল সাউথের শক্তি বাড়ানো'। এই ভাষণের মাধ্যমে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঐক্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
ভাষণ দানকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্রিকস জোটের সদস্য দেশগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব পেশ করেন। তাঁর এই প্রস্তাবে মূলত বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এর সুফল সব সদস্য দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন।
প্রস্তুতকৃত উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি বড় ঘোষণা ছিল প্রযুক্তি খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। চীন ব্রিকস দেশগুলোর জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওপেন-সোর্স জোন গড়ে তোলার প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রসার ও পারস্পরিক গবেষণা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের অধিবেশন এবং চীনের প্রেসিডেন্টের এই ধরনের প্রস্তাব ব্রিকস জোটের সহযোগিতার পরিধিকে আরও বহুদূর এগিয়ে নেবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক কাঠামোর বাইরে এই ধরনের আঞ্চলিক ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর শক্তি বৃদ্ধিতে জোরালো ভূমিকা রাখছে।
রবিবার অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনটি ব্রিকস জোটের ইতিহাসে একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চীন ও অন্যান্য ব্রিকস সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এই পারস্পরিক অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। পরিশেষে, শি জিনপিংয়ের এই ভাষণ ও প্রস্তাবগুলো ব্রিকস সহযোগিতার ভিত্তি আরও বেশি সুদৃঢ় করবে বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।








