নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে বন্যা ও হিমবাহ ধসে নিহত ৬৬৯ থেকে ৭৩৪
নেপাল ও চীন সীমান্তে ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও বন্যায় প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্গম এই পরিস্থিতিতে নিহতের সংখ্যা ৬০০ থেকে ৭০০ ছাড়িয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার পর উদ্ধারকাজ আবার শুরু হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নেপাল ও চীন সীমান্তে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। হিমবাহ ধসের ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই আকস্মিক বিপর্যয়ে নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হিমবাহ ধসের সরাসরি প্রভাবে নেপাল ও চীন সীমান্তের ভোতেকোশি এবং ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। নদীর পানির তীব্র স্রোত ও আকস্মিক বৃদ্ধিতে আশপাশের জনপদ ও অবকাঠামো ভেসে গেছে। আকস্মিক এই বন্যায় দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ভয়াবহ দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী নিহত হয়েছেন ৬৬৯ জন, অন্যদিকে অন্য একটি সূত্রের মতে এই সংখ্যা ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৪২ জন মানুষ, যাদের স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দলগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৩,০০০ জন এবং আরেকটি সূত্রে এই সংখ্যা ২,৪৯৮ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন থেকে ৫৮৯ জন পর্যন্ত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। পাশাপাশি, এই উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থেকে নিখোঁজ হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮৫ জন সদস্য।
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের পর দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। আবহাওয়াজনিত কারণে কিছু সময় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় নেপালে উদ্ধারকাজ পুনরায় শুরু হয়েছে এবং তা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার অভিযان পরিচালনা করে হতাহতদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে নেপালের চিতওয়ান জেলায়। এই উদ্ধার অভিযানে বর্তমানে ১৯,৮৯৫ জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন, যারা দিনরাত কাজ করে চলেছেন।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDRRMA), রয়টার্স এবং সিসিটিভি সূত্রে এই তথ্যগুলো জানা গেছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর অঞ্চলটির অবকাঠামো ও জনজীবন স্বাভাবিক করতে বিশাল অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই অঞ্চলের সম্পূর্ণ পুনর্গঠনে প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।








