নেপালে হিমবাহ ধস ও বন্যায় সুড়ঙ্গে শ্রমিক আটকা, উদ্ধার অভিযান চলছে
নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে প্রায় ৯০০ শ্রমিক আটকা পড়েছেন। বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপালের পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। এই ঘটনায় ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নেপাল-চীন সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় হিমবাহের একটি অংশ আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে। এই হিমবাহ ধসের ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে মারাত্মক বন্যা দেখা দেয়, যা দেশটির বিভিন্ন জনপদ ও অবকাঠামোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে শ্রমিক আটকা পড়েছেন এবং বর্তমানে সেখানে জোরেশোরে উদ্ধার অভিযান চলছে।
হিমবাহ ধস ও বন্যার কারণে সৃষ্ট এই সংকটময় পরিস্থিতিতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় ৯০০ শ্রমিক আটকা পড়েন। সুনির্দিষ্ট তথ্যানুযায়ী, সেখানে ৯৩৩ জন শ্রমিক এবং অন্তত ৩০০ মিটার ও ১০০ মিটার সুড়ঙ্গের নানা অংশ এই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঠপর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।
এই বিশাল উদ্ধার অভিযানে নেপালের নিজস্ব জনবলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তাও যুক্ত হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী, রেড ক্রস, জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এবং সিসিটিভি সংশ্লিষ্ট নজরদারির পাশাপাশি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। এছাড়া নেপালের পাশাপাশি ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষ দল এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। উদ্ধারকাজে সম্পৃক্ত রয়েছেন বালেন্দ্র শাহ ও নেত্র বাহাদুর কার্কি।
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের ফলে দেশটির জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই বিপর্যয়ের কারণে দেশের মোট ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অবকাঠামোতেও মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
ঘটনাস্থল ও এর আশেপাশের এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে শ্রমিকদের নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসার জন্য দিনরাত কাজ করছে যৌথ উদ্ধারকারী দল। তবে বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং সুড়ঙ্গে আটকে থাকা প্রতিটি শ্রমিককে উদ্ধার না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর বিষয়েও প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।








