নিউইয়র্ক টাইমসের কপিরাইট মামলায় ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের নথি উন্মোচন
নিউইয়র্ক টাইমস বনাম ওপেনএআই ও মাইক্রোসফটের কপিরাইট মামলার নতুন নথি উন্মোচিত হয়েছে। এতে এআই স্ক্রেপিং এবং প্রকাশকদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা প্রকাশ পেয়েছে। পাশাপাশি মাইক্রোসফটের কোপাইলট সার্চ ইঞ্জিনের কারণে টাইমসের সাইটের ক্লিক-থ্রু রেট হ্রাসের তথ্য উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ওপেনএআই এবং মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের করা বহুল আলোচিত কপিরাইট মামলার নতুন কিছু ফাইলিং বা নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে। আজ থেকে তিন বছর আগে টেক জায়ান্ট এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেছিল স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সম্প্রতি এই মামলার নতুন ও অবিন্যস্ত (আনরিড্যাক্টেড) তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই স্ক্রেপিং এবং এর কারণে সংবাদ প্রকাশকদের ওপর সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর অভ্যন্তরীণ আলোচনার চিত্র উন্মোচন করেছে।
উন্মোচিত হওয়া নতুন এই তথ্য ও ফাইলিংগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এআই প্রযুক্তির পেছনে কাজ করা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতি এবং সংবাদমাধ্যমের মূল কনটেন্ট ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। এই মামলায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নাম উঠে এসেছে, যাদের মধ্যে রেবেকা বেলান, জাস্টিন সুলিভান, ব্রেন্ট হেখট, সত্য নাদেলা, নিক টার্লি, গ্রেগ ব্রকম্যান এবং নিক রাইডারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া ওপেনএআই, মাইক্রোসফট, রেপ্লিট, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ডেইলি নিউজ, সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং এবং কমন ক্রলের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও এই নথিপত্রগুলোতে আলোচিত হয়েছে।
মামলার নথিতে কিছু নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান ও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের অর্থনীতিতে এআইয়ের প্রভাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এর মধ্যে মাইক্রোসফটের কোপাইলট অ্যানসার ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ডোমেইনের ক্লিক-থ্রু রেট ঐতিহ্যগত বিং সার্চের তুলনায় প্রায় ৯৩ শতাংশ কমে গেছে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ওপেনএআইয়ের মিড-ট্রেনিং ডেটাসেটে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ডেইলি নিউজ এবং সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিংয়ের প্রকাশিত কাজের ৯১ হাজার ৬৯২টিরও বেশি কপি অন্তর্ভুক্ত ছিল। একই সঙ্গে কমন ক্রল-ভিত্তিক ডেটাসেটে nytimes.com-এর ২০ লাখের বেশি নথি এবং প্রজেক্ট ম্যাঙ্গো ট্রেনিং ডেটাসেটে সংবাদ প্রকাশকদের ১৬০ হাজার ৯০৩টিরও বেশি অনন্য কাজ সংরক্ষিত থাকার তথ্য সামনে এসেছে। নথিতে টিকিটের ওপর ২৫ শতাংশ ছাড়ের মতো অন্যান্য বাণিজ্যিক বিষয়েরও উল্লেখ রয়েছে।
উন্মোচিত নথিপত্রগুলোতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ উদ্ধৃতি ও মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছে, যা এই মামলার প্রেক্ষাপটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ব্রেন্ট হেখট তাঁর এক মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক যে একটি চূড়ান্ত পণ্য তার প্রয়োজনীয় সরবরাহকারীদের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে হুমকির মুখে ফেলে, অথচ এলএলএম ব্যবসার ক্ষেত্রে এর 'কনটেন্ট সাপ্লাই চেইন'-এর ক্ষেত্রে আমরা ঠিক এই অবস্থাই তৈরি করেছি। অন্যদিকে, মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা মন্তব্য করেছেন যে, পেওয়ালের পেছনের যেকোনো কিছু গ্রাউন্ডিং বা প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করতে চাইলে যে কারো মাধ্যমেই তা লাইসেন্স করা উচিত। এছাড়া ওপেনএআইয়ের গ্রেগ ব্রকম্যানকে এই আলোচনার মধ্যে 'আহ নাইস' বা বেশ ভালো বলে মন্তব্য করতে দেখা গেছে।
মামলার এই নতুন মোড় প্রকাশকদের ডিজিটাল অধিকার এবং এআই কোম্পানির লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের প্রশিক্ষণ কনটেন্ট সংগ্রহের নৈতিকতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তিন বছর আগে শুরু হওয়া এই আইনি লড়াইয়ে প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে, এআই খাতের অগ্রগতি সংবাদ প্রকাশকদের বিপন্ন করে তুলছে কি না, তা নিয়ে খোদ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেও গভীর উদ্বেগ ও মূল্যায়ন রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে এই নথিপত্র উন্মুক্ত হওয়ার ফলে ভবিষ্যতের কপিরাইট আইন ও এআই নীতির ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।








