কাবুলের দূতাবাস চালুর আহ্বান তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর থেকেই শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কাবুলে তাদের দূতাবাস পুনরায় চালু এবং দেশটিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে তালেবান সরকার।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

আফগানিস্তানে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরালো করার চেষ্টা চালাচ্ছে তালেবান। এর অংশ হিসেবেই এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কাবুলের দূতাবাস পুনরায় চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে তালেবান সরকার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আহ্বান জানান তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি।
আফগানিস্তানে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পর ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেয়। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সেই ঐতিহাসিক ঘটনার পরই আফগানিস্তানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। মার্কিন সেনা প্রস্থানের মাধ্যমে দেশটিতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আমরা বর্তমানে বিবেচনা করি যুদ্ধের অধ্যায় শেষ হয়েছে। তালেবানের শীর্ষ এই নেতার মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে এখন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের সময় শুরু হয়েছে।
কাবুলের পক্ষ থেকে এমন সময় এই কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া হলো, যখন ক্ষমতা দখলের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্বমঞ্চে বড় ধরনের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে তালেবান প্রশাসন। আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর ইতোমধ্যে পাঁচ বছর হয়ে গেলেও বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। স্বীকৃতি না পাওয়ার এই দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি বিনিয়োগ ও দূতাবাস চালুর প্রস্তাব দিল তালেবান।
তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দরজা উন্মুক্ত রাখার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিদেশি বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে বর্তমান প্রশাসন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো এই আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয় এবং দীর্ঘদিনের এই কূটনৈতিক দূরত্ব ঘুচে কোনো নতুন সম্পর্কের সূচনা হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।








