তীব্র গরমে বাড়ছে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ উৎপাদনে নানা সংকট
তাপপ্রবাহের কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। কয়লা সংকট, গ্যাস স্বল্পতা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও লোডশেডিং বেড়েছে। চলতি গরমে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। চাহিদা বাড়লেও কয়লা সংকট, গ্যাস সরবরাহ constraints এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে গত ১০ আগস্ট ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। এছাড়া গত সোমবার দুপুর ৩টায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২১৬ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট। তবে কয়লা সংকট এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ২৩৪ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪৫০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে পটুয়াখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ১৭০ মেগাওয়াট এবং পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ১৬৩ মেগাওয়াট, যেখানে পায়রায় বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৫৭০ মেগাওয়াট। এছাড়া ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে দৈনিক গড়ে মিলছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
কয়লার পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের বড় কারণ গ্যাসের ঘাটতি। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে দেশে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল প্রায় ৩১৬ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট, যার মধ্যে দেশীয় গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৫৭ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট। কিন্তু বর্তমানে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ নেমে এসেছে ১৬২ কোটি ঘনফুটে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও বাস্তবে চাহিদা ৫০০ কোটি ঘনফুটের ওপরে রয়েছে।
গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ খাতে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট সক্ষমতা ১২ হাজার ১৫৪ মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি স্বল্পতার কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের নিচে চলে গেছে। সংকট মোকাবিলায় আমদানির চেষ্টা চলছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশে ৬৮টি এলএনজি কার্গো এসেছে, যার মধ্যে শুধু জুলাই ও আগস্টে এসেছে ১৫টি এলএনজি কার্গো। পেট্রোবাংলা গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পটুয়াখালী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পরিস্থিতি পর্যালোচনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মো. জহুরুল ইসলাম ও মো. শোয়েব এই পুরো পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন।
উৎপাদন কমার পেছনে অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণও রয়েছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে তাপপ্রবাহের এই সময়ে কয়লা সংকট, গ্যাস স্বল্পতা এবং আমদানি বন্ধ থাকায় দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।








