দেশজুড়ে তীব্র গরমে ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট
তীব্র গরমে দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশজুড়ে তীব্র গরমে ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে দেশজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন, আবাসিক গ্রাহক, বিভিন্ন শিল্পকারখানা এবং সিএনজি স্টেশনগুলো অত্যন্ত নাজুক অবস্থার মধ্যে পড়েছে।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে গ্যাসের গড় সরবরাহ নেমে এসেছিল প্রায় ২২৩ কোটি ঘনফুটে, যা গত এক দশকে আগস্ট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। অথচ এই সময়ে গ্যাসের মোট চাহিদা ছিল ৪০০ কোটি ঘনফুটেরও বেশি। গ্যাসের এই তীব্র সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সার উৎপাদনেও। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে গত বছরের পহেলা মার্চ থেকে গত ১৮ মাস ধরে আশুগঞ্জ সার কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এই কারখানার দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদনের ক্ষমতা ছিল ১,১৫০ টন।
বিদ্যুৎ খাতের পরিসংখ্যান পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট করে তোলে। গত সোমবার দুপুর ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬,৩৮৬ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২,৬৯৩ মেগাওয়াট এবং ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩,৬৯৩ মেগাওয়াট। একই দিন দুপুর ১২টায় ঘাটতি ছিল ৩,১০১ মেগাওয়াট, দুপুর ২টায় ঘাটতি ছিল ২,৭৬-৮ মেগাওয়াট এবং বিকেল ৪টায় ঘাটতি দাঁড়ায় ৩,২০১ মেগাওয়াটে। এছাড়া আগের দিন বিকেল ৪টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬,৫৬৭ মেগাওয়াট, সরবরাহ ছিল ১২,৯২৮ মেগাওয়াট এবং ঘাটতি ছিল ৩,৬৩৯ মেগাওয়াট; আর আগের দিন সন্ধ্যা ৬টায় ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২,৫৩৯ মেগাওয়াট। সরকারিভাবে লোডশেডিংয়ের হার জানানো হয়েছে ৩০ শতাংশ।
রাজধানী ঢাকা, পল্লবীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সংকটের তীব্রতা দারুণভাবে অনুভূত হচ্ছে। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের কাছাকাছি সময়ে তারা মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র চার ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পেয়েছেন। খোকসা উপজেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৪ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩.৫ মেগাওয়াটের মতো।
খোকসার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্থানীয়রা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। খোকসা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গোপগ্রাম ফিডারের মোট গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ২০,০০০। এই ফিডারের দৈনিক বিদ্যুতের প্রয়োজন প্রায় ৫ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৩.৫ মেগাওয়াট। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্টরা হিমশিম খাচ্ছেন।
তীব্র গরমের মধ্যে এমন ভয়াবহ লোডশেডিং ও গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জনজীবন আরও বেশি হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








