ঢাকায় অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ
ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আল জasters ঢাকায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের চুক্তি হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকায় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আল জাসের। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।
এই সাক্ষাতের সময় ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আদিব ইউসুফ আল আমা, আনাস আসিয়ামি, আবদিহামিদ আবু, মোহাম্মাদ জাফর আলমাশহারাউই, আহমাদ শাওয়েশ, আবদিকাদির আবদি, আলী খান, নাসের ইয়াকুবু, মাহবুব রব্বানি, আবদুল আলিম এইচ মোহাম্মদ, ইফতেখার আলম, মো. আশরাফুল হাসান, লামিয়া মোরশেদ এবং তাসমিনা রহমান। এছাড়া বৈঠকে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি), গ্রামীণ ব্যাংক, ইউনূস সেন্টার, ইস্টার্ন রিফাইনারি, গ্রামীণ গ্রুপ ও গ্রামীণ ট্রাস্টের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
সাক্ষাতকালে বাংলাদেশ ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করেছে। এই অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই চুক্তি স্বাক্ষর প্রসঙ্গে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, 'এই চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতা এবং বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের ভূমিকার প্রতিফলন ঘটেছে।' উভয় পক্ষই এই অংশীদারিত্বকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেন।
বৈঠকে তরুণ সমাজ ও কর্মসংস্থান নিয়েও আলোচনা হয়। ড. আল জাসের বর্তমান প্রজন্মের মানসিকতা তুলে ধরে বলেন, 'বর্তমানে অধিকাংশ তরুণের মধ্যেই প্রচলিত চাকরিব্যবস্থা থেকে দূরে থাকার প্রবণতা রয়েছে, তারা আর নিজেদের শুধু চাকরিজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী নন।' তিনি তরুণদের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, 'তরুণদের সৃজনশীলতাকে সমস্যা সমাধান ও তাদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে—যে ধারণাটি শুরু থেকেই ক্ষুদ্রঋণের মূল ভিত্তিতে ছিল।'
আলোচনায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্রঋণ মডেলের সাফল্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক বাংলাদেশের এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের অন্যান্য সদস্য দেশগুলোতেও ক্ষুদ্রঋণ চালুর বিভিন্ন উপায় বিবেচনা করছে। বাংলাদেশের এই সফল মডেলটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কীভাবে অন্যান্য দেশের উপকারে লাগতে পারে, সে বিষয়েও বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
সব মিলিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের এই বৈঠক বাংলাদেশ ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের মধ্যকার সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন এবং ক্ষুদ্রঋণের প্রসার নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যকার এই অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।








