ডেনিম প্যান্ট উৎপাদনে পানির বিপুল ব্যবহার ও পরিবেশগত প্রভাব
বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর শত শত কোটি ডেনিম প্যান্ট উৎপাদিত হয়, যার পেছনে বিপুল পরিমাণ পানি খরচ হয়। তুলা চাষ থেকে শুরু করে ডাইং ও ওয়াশিং প্রক্রিয়ায় পানির এই ব্যবহার পরিবেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ডেনিম কাপড়ের মূল কাঁচামাল হলো কটন বা তুলা। বৈশ্বিক বাজারে ডেনিম প্যান্টের চাহিদা অত্যন্ত ব্যাপক। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি পিস প্যান্ট উৎপাদিত হয়। এই বিশাল পরিমাণ পোশাক তৈরির পেছনে প্রচুর পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ খরচ হয়, যার মধ্যে পানি অন্যতম প্রধান একটি উপাদান।
একটি প্যান্ট বানাতে গড়ে ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কিলোগ্রাম তুলা লাগে। আর এক কিলোগ্রাম তুলা উৎপাদনে প্রায় ১০ হাজার লিটার পানি প্রয়োজন হয়। বিশ্বের মোট কৃষিজমির মাত্র আড়াই শতাংশে তুলার চাষ হলেও এটি বৈশ্বিক কৃষি সেচের প্রায় ১৭ শতাংশ পানি টেনে নেয়। শুধু তুলা চাষেই চলে যায় মোট পানির ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ।
ব্রিটিশ বিজ্ঞানী টনি অ্যালান আশির দশকে ভার্চুয়াল ওয়াটার বা এমবেডেড ওয়াটারের ধারণাটি প্রথম সামনে আনেন। এই ধারণার আলোকেই কাপ व পণ্যের পেছনে অদৃশ্য পানির খরচের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। একটি প্যান্টের পেছনে সাধারণত ৭ থেকে ১০ হাজার লিটার পানি খরচ হয়। তবে কোনো কোনো হিসাবে এই পানির পরিমাণ ১৫ হাজার লিটার পর্যন্ত উঠে যায়।
পোশাক তৈরির পরবর্তী ধাপগুলোতেও পানির ব্যবহার কম নয়। ডেনিমের রং আসে ইন্ডিগো ডাই থেকে, আর সুতায় রং চড়ানোর প্রক্রিয়াটির নাম ইন্ডিগো ডাইং। ডাইং প্রক্রিয়ায় একটি প্যান্টের জন্য গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ লিটার পানি শুধু রং করার কাজেই শেষ হয়। এছাড়া স্টোনওয়াশিং প্রক্রিয়ায় প্রতিটি প্যান্টের জন্য আরও ১০০ থেকে ২০০ লিটার পানি খরচ হয়।
চীনের জিনতাং অঞ্চলকে পৃথিবীর প্যান্ট রাজধানী বলা হয়, যেখানে ডেনিম উৎপাদন ব্যাপকভাবে কেন্দ্রীভূত। বৈশ্বিক এই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পানির অপচয় রোধে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্যে লেভিস বা Levi's ব্র্যান্ড তাদের ওয়াটারলেস প্রযুক্তিতে কিছু প্রক্রিয়ায় পানির ব্যবহার ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে বলে দাবি করে।








