টর্নেডোর শক্তির উৎস ও গঠন প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
টর্নেডোতে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও টিউবওয়েল পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার শক্তি থাকে। মেঘ থেকে শক্তি সঞ্চয় করে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয়। উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে এর ঘূর্ণন প্রক্রিয়া ভিন্ন হয়ে থাকে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

প্রকৃতির অন্যতম এক ভয়ঙ্কর রূপ হলো টর্নেডো। এই শক্তিশালী ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও টিউবওয়েল পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো ধ্বংসাত্মক শক্তি থাকে। মূলত মেঘ থেকেই টর্নেডো তার প্রয়োজনীয় শক্তি অর্জন করে থাকে।
টর্নেডো সৃষ্টির পেছনে কাজ করে জলীয়বাষ্পভরা বাতাসের রূপান্তর প্রক্রিয়া। জলীয়বাষ্পপূর্ণ বাতাস নিম্নচাপের কারণে হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায় এবং পরবর্তীতে ঠান্ডা হয়। এই ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়ায় বাতাসের জলীয়বাষ্প জমে মেঘে পরিণত হয়।
জলীয়বাষ্প থেকে মেঘে রূপান্তর ঘটার এই পুরো সময়টিতে প্রচুর পরিমাণে তাপ নির্গত হয়। এই নির্গত তাপই পরবর্তীতে ঝড়ের ক্ষেত্রে গতিশক্তিরূপে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং টর্নেডোকে শক্তি জোগায়।
খুব বেশি গরমের কারণে বাতাস যখন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ওপরের দিকে উঠতে থাকে, তখন ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এলাকায় একটি শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এই আকস্মিক শূন্যতা পূরণের জন্য তখন চারপাশ থেকে ঠান্ডা বাতাস প্রবল বেগে ছুটে আসে।
পৃথিবীর বিভিন্ন গোলার্ধে টর্নেডোর সময় ও গতির ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট বৈচিত্র্য দেখা যায়। যেমন—পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো সাধারণত মার্চ থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে সংঘটিত হয়ে থাকে।
এছাড়া ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে টর্নেডোর বায়ুপ্রবাহের ঘূর্ণন দিকও পরিবর্তিত হয়। উত্তর গোলার্ধে সৃষ্ট টর্নেডোর বায়ুপ্রবাহ চক্রাকারে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরপাক খায়। অন্যদিকে, দক্ষিণ গোলার্ধে এই বায়ুপ্রবাহ ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরপাক খেয়ে থাকে।








