জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে আলুর দাম পতন, লোকসানে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা
জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে আলুর বাজারদর নিম্নমুখী হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকরা। বর্তমান বাজারদরে আলু বিক্রি করলে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। ফলে ঋণ শোধ ও নতুন আমন চাষের অর্থ জোগাড় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে আলুর বাজার নিম্নমুখী হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন। হিমাগারে রাখা আলু বর্তমান বাজারে বিক্রি করলে বস্তাপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। এর ফলে এই অঞ্চলের কৃষিকাজ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মারাত্মক ধস নেমেছে।
জয়পুরহাটের স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, বেশি দামে বিক্রির আশায় তারা তাদের উৎপাদিত সব আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে আলুর দাম কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। এ বিষয়ে কৃষক মকবুল হোসেন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বেশি দামে বিক্রির আশায় সব আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন বিক্রি করলেই বস্তাপ্রতি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা লোকসান হচ্ছে। ঋণ শোধ করা দূরের কথা, দিন দিন দেনার বোঝা বেড়েই চলেছে। কী করব, কূলকিনারা পাচ্ছি না।
অপর এক কৃষক মোকলেছুর রহমান অনুশোচনা প্রকাশ করে জানান, তখন আলু বিক্রি করলে আজ হিমাগারের ভাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো না। কৃষকদের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। হিমাগার ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরে জানান, বর্তমানে আলুর যে দাম, তাতে বস্তাপ্রতি গড়ে ৪০০ টাকা লোকসান হচ্ছে। ঋণের বোঝাও বেড়ে গেছে। সিসি ঋণ এবার নবায়নই করতে পারিনি। ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে গেছে। সরকার দ্রুত আলু রপ্তানির উদ্যোগ নিলে বাজারদর কিছুটা বাড়তে পারে। তাতে লাভ না হলেও অন্তত মূলধন রক্ষা করা সম্ভব হবে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটের ২২টি হিমাগারে বর্তমানে ২ লাখ ১৬ হাজার টন আলু সংরক্ষিত রয়েছে। অন্যদিকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর জানিয়েছে, এই উপজেলায় এক হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছিল এবং মোট ৩৭ হাজার ২৫০ টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল। বিপুল পরিমাণ এই আলু হিমাগারে সংরক্ষিত থাকলেও দাম না থাকায় কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন আসছে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হিমাগার মালিকরাও চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। উৎপাদিত আলুর সঠিক মূল্য না পাওয়ায় এবং হিমাগারের ভাড়া ও ঋণ পরিশোধ নিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এছাড়া এই মুহূর্তে আমন ধানের মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষকদের চরম অর্থসংকট দেখা দিয়েছে। আমন চাষের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে তারা হিমাগারে রাখা লোকসানি আলু নিয়েই বড় ধরণের দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।








