জ্বালানি সংকট ও এলএনজি নির্ভরতা নিয়ে বুয়েট বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ
বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট, এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো-ভিসি আব্দুল হাসিব চৌধুরী। গরমে এসি ও চার্জার রিকশার বিদ্যুৎ চাহিদার বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে জ্বালানি খাত এক বিশেষ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা সামনে এসেছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রো-ভিসি আব্দুল হাসিব চৌধুরী দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও সংকট উত্তরণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও মতামত তুলে ধরেছেন। দেশের বিদ্যমান জ্বালানি কাঠামোগত দুর্বলতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে তাঁর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশই আসছে বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে। সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে, দেশে এখন মোট গ্যাস সরবরাহের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি, যা পুরোপুরি আমদানি করে মেটাতে হয়।
আমদানিনির্ভর এই এলএনজির ওপর উচ্চমাত্রার নির্ভরতা দেশের অর্থনীতি এবং সামগ্রিক জ্বালানি খাতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামের ওঠানামা এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তা দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
এলএনজি আমদানির পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গরমের সময়ে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদার বড় একটি অংশের উৎস হলো এয়ার কন্ডিশনার বা এসি। শুধুমাত্র এসি চালুর কারণেই বিদ্যুতের এই বাড়তি চাহিদা প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াটে গিয়ে পৌঁছায়।
এসির পাশাপাশি দেশের পরিবহন খাতের একটি নির্দিষ্ট অংশও বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। সাধারণত রাতে এগুলোর ব্যাটারি চার্জ হয়, যার জন্য প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরই চাপ সৃষ্টি করে।
এসব বহুমুখী সংকট এবং অতিরিক্ত চাহিদার বিষয়গুলো মাথায় রেখে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।








