জেফারসন ল্যাবে এক্সওয়াইজেড দশার সাথে সম্পর্কিত দুটি কাঠামো শনাক্ত
যুক্তরাষ্ট্রের থমাস জেফারসন ন্যাশনাল এক্সিলারেটর ফ্যাসিলিটির গবেষকরা এক্সওয়াইজেড দশার সাথে সম্পর্কিত দুটি অপ্রত্যাশিত সাবঅ্যাটমিক কাঠামো শনাক্ত করেছেন। গ্লুওনিক এক্সাইটেশনস কোলাবরেশনের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক হল ডি-তে এই গবেষণা চালানো হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৪৬· ১ মিনিট পড়া

যুক্তরাষ্ট্রের থমাস জেফারসন ন্যাশনাল এক্সিলারেটর ফ্যাসিলিটির গবেষকরা এক্সওয়াইজেড (XYZ) দশার সাথে সম্পর্কিত দুটি অপ্রত্যাশিত সাবঅ্যাটমিক বা উপপারমাণবিক কাঠামো শনাক্ত করার প্রমাণ পেয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাটি জেফারসন ল্যাব ও এর পরীক্ষামূলক হল ডি-তে গ্লুওনিক এক্সাইটেশনস (GlueX) কোলাবরেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। গবেষণার এই ফলাফলগুলো ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স (Physical Review Letters) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মাল্টে আলব্রেখট জানান, ফোটন বিম ব্যবহার করে একটি নিশ্চিত এক্সওয়াইজেড প্রার্থীর সন্ধানে নামলেও তারা এর পরিবর্তে অন্য দুটি কাঠামো খুঁজে পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এটি একটি নতুন তথ্য। এই গবেষণার সাথে মాల్টে আলব্রেখট ছাড়াও ফ্রাঙ্ক নার্লিং, ক্লাউস গোটজেন এবং জাস্টিন স্টিভেন্স যুক্ত রয়েছেন।
পদার্থবিজ্ঞানে নতুন এই আবিষ্কারের তাৎপর্য তুলে ধরে ফ্রাঙ্ক নার্লিং মন্তব্য করেছেন যে, প্রথমে হ্যাড্রনের একটি চিড়িয়াখানা আবিষ্কৃত হয়েছিল। এখন তারা তথাকথিত এক্সোটিক বা বহিরাগত দশার একটি চিড়িয়াখানার মুখোমুখি হয়েছেন। এই গবেষণার কাজের পরিধি ও এর জটিলতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরীক্ষার সমন্বয় সাধনের চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন বিজ্ঞানীরা।
ক্লাউস গোটজেন এই গবেষণার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানান যে, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে খুব ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে অনেকগুলো পরিমাপ করা হয়, যা তারা কী দেখছেন সে বিষয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে হয়। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, তা আসলে আরও বেশি জটিল; কারণ কাছাকাছি ভরের এমন কিছু দশা রয়েছে যা একই বস্তু হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।
সাবঅ্যাটমিক কণার এই গঠনগত রহস্য এবং গ্লুওনিক অবদানের বিষয়ে জাস্টিন স্টিভেন্স আলোকপাত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, উত্তেজিত গ্লুওনিক ক্ষেত্রগুলো এমন মেসনগুলোর মধ্যে থাকতে পারে যেখানে কেবল একটি কোয়ার্ক-অ্যান্টিকোয়ার্ক জোড়ার চেয়েও বেশি কিছু থাকে। তিনি আরও জানান যে, আমরা যে কাঠামোটি দেখতে পাচ্ছি সেখানে কোনো গ্লুওনিক অবদান রয়েছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করার একটি তদন্ত হলো এটি।
ফ্যাক্ট শিটের তথ্য অনুযায়ী, ইতিপূর্বে বিএবিএআর (BaBar), বিইএস (BES) এবং বেলের (Belle) মতো পরীক্ষাগুলোতে পজিট্রন-ইলেকট্রন (e+e-) অ্যানিহোলেশনের মাধ্যমে ওয়াই-২১৭৫ (Y(2175)) তৈরি করা হয়েছিল। এই গবেষণার কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন।
এই গবেষণার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি বা শক্তি বিভাগ এবং থমাস জেফারসন ন্যাশনাল এক্সিলারেটর ফ্যাসিলিটি ছাড়াও জিএসআই হেলমহোল্টজ সেন্টার ফর হেভি আয়ন রিসার্চ, গ্যোটে ইউনিভার্সিটি ফ্রাঙ্কফুর্ট, এসএলএসি ন্যাশনাল এক্সিলারেটর ল্যাবরেটরি, বেইজিং স্পেকট্রোমিটার (BES), বেল (Belle) এবং উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পৃক্ত রয়েছে। এছাড়া গবেষণার সাথে ২.১৬ বিলিয়ন ইলেকট্রন ভোল্টস (২.১৬ GeV) সম্পর্কিত পরিসংখ্যান যুক্ত রয়েছে।








