জাপানে দীর্ঘ ৩১ বছর অবৈধভাবে বসবাসের পর দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক গ্রেপ্তার
জাপানের শিজুওকা প্রিফেকচারের পুলিশ দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে এক প্রবীণ দক্ষিণ কোরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১৫ দিনের পর্যটন ভিসায় তিনি জাপানে প্রবেশ করেছিলেন এবং এরপর থেকেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে বসবাস করে আসছিলেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

জাপানের শিজুওকা প্রিফেকচারের পুলিশ গত জুনে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করে এক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অভিবাসনের সমস্যা রয়েছে এবং এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি সেই প্রেক্ষাপটেই সামনে এসেছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি একজন বয়স্ক দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক, যার সঠিক বয়স গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অন্যের বা ভাইয়ের পাসপোর্ট ব্যবহার করে জাপানে প্রবেশ করেছিলেন। সে সময় তার ভিসার মেয়াদ ছিল মাত্র ১৫ দিন। কিন্তু নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি নিজ দেশে ফিরে যাননি এবং জাপানেই থেকে যান।
দীর্ঘ এই সময়ে তিনি শিজুওকা প্রিফেকচারের ইয়াইযু শহরে অত্যন্ত গোপনে বসবাস করতেন। জীবনধারণের জন্য তিনি বিভিন্ন স্থানে দৈনিক মজুরির কাজ করতেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি টানা ২৬ বছর ধরে এভাবেই জাপানে বসবাস করে আসছিলেন।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ স্বীকার করেছেন। জাপানের আইন অনুযায়ী তার এই দীর্ঘ অবস্থান কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পড়েছে। বিশেষ করে ২০০০০ সালে সংশোধিত অভিবাসন আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে তার এই অবস্থান আনুষ্ঠানিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাপানের অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, ১৯৯৩ সালে দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী মানুষের রেকর্ড সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৪৬ জন। পরবর্তীতে এই সংখ্যায় পরিবর্তন এসেছে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাপানে এখনো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থানকারী মানুষের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৪৮৮ জন।
জাপানের বিচার মন্ত্রণালয় ও শিজুওকা প্রিফেকচারের পুলিশের যৌথ বা পৃথক পদক্ষেপে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই দক্ষিণ কোরীয় নাগরিককে আটক করা হয়, যিনি দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপানে অবৈধ জীবনযাপন করছিলেন।








