এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী বাড়ায় জাপানে আবাসনসংকট
২০তম এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আশানুরূপভাবে বেড়ে যাওয়ায় জাপানের নাগোয়া ও আইচিতে তীব্র আবাসনসংকট দেখা দিয়েছে। আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাড়তি মানুষের জন্য তাদের কাছে পর্যাপ্ত বাজেট ও ব্যবস্থা নেই।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের নাগোয়া ও আইচি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০তম এশিয়ান গেমস। তবে এই মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া আসরটি শুরু হওয়ার আগেই বড় ধরনের এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এবারের গেমসে অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে তীব্র আবাসনসংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিবিসি ও এএফপির বরাত দিয়ে প্রথম আলোর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার মানুষের। এর মধ্যে ১১ হাজার অ্যাথলেট এবং ৬ হাজার কর্মকর্তা রয়েছেন। অথচ মূল আয়োজক কমিটির চুক্তি ও পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সংখ্যাটি অনেক কম ছিল।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারের টুর্নামেন্টে মূল ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ২ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা বেশি অংশ নিচ্ছেন। এর ফলে আয়োজক শহরগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এই বাড়তি মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা নিয়ে এখন বেশ বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে আইচি অঞ্চলের গভর্নর হিদেয়াকি ওমুরা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তাঁর অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'আয়োজক শহরের চুক্তিতে ১৫ হাজার সদস্যের প্রতিনিধিদলের কথা বলা হয়েছে। এর বেশি মানুষের জন্য আমরা কোনো বাজেট রাখিনি। থাকার জন্য আসলে জায়গাই নেই।'
গভর্নর হিদেয়াকি ওমুরা আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, 'তাঁরা যদি তবু আসতে চান, তাহলে তাঁদের নিজেদের ব্যবস্থা করতে হবে।' তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে আয়োজক কমিটির অনমনীয় ও সীমাবদ্ধ পরিস্থিতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আয়োজক কমিটির আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইচিরো হিরোসাওয়া বর্তমান অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে জানিয়েছেন, 'আমরা খুব সীমিত বাজেটে কাজ করছি।' তাঁর এই বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয় যে, বর্ধিত ১৭ হাজার মানুষের এই বিশাল বহরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও জনবল এই মুহূর্তে আয়োজক কমিটির হাতে নেই।
সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে অলিম্পিক ভিলেজ না থাকার কারণে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এবারের এশিয়ান গেমসে আলাদা কোনো অ্যাথলেট ভিলেজ থাকছে না। ফলে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য হোটেল বা বিকল্প রুমের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা ১৭ হাজার মানুষের জন্য জোগান দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সংকট কীভাবে কাটানো যায়, তা নিয়ে এখন তোড়জোড় চলছে।








