জাতীয় সংসদের স্পিকারের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, গণতন্ত্র এবং বিভিন্ন সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানী ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। একই সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সাথেও সাক্ষাৎ করেন। এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকটি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের একপর্যায়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক সবসময় নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। ঐতিহাসিক এ সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনরায় গণতন্ত্রের পথযাত্রা সুগম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনার শাসনামলে দুই দেশের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান যে, সে সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক ছিল মূলত সরকারকেন্দ্রিক। তিনি জোরালোভাবে বলেন যে, দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্কই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত। পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখে এ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের স্পিকারের বক্তব্যের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন যে, দুই দেশের মধ্যে জনগণকেন্দ্রিক সম্পর্ক নির্মাণে ভারত সরকার আগ্রহী। জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক বিনির্মাণের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন যে, দুই দেশ অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছে।
বৈঠকে সংসদীয় কার্যক্রম ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এ সময় বলেন যে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর সফল বাস্তবায়নে তিনি ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সংসদ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।
এছাড়াও এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্পিকারকে ভারত সফরের একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ বার্তা পৌঁছে দেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। লুই আই কান কর্তৃক নকশাকৃত জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি দুই দেশের কূটনৈতিক ও সংসদীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








